Logo

চাপে পড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার জরুরি সহায়তা চাইল ইসলামী ব্যাংক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ জুন, ২০২৬, ১৭:৫৪
চাপে পড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার জরুরি সহায়তা চাইল ইসলামী ব্যাংক
ছবি : জনবাণী গ্রাফিক্স

দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি সম্প্রতি নতুন করে তারল্য চাপে পড়েছে। ব্যাংকটির পরিচালনায় পরিবর্তনের পর গ্রাহকদের একাংশের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ আমানত তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা চেয়েছে ব্যাংকটি।

বিজ্ঞাপন

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর কিছু গ্রাহক ও অংশীজনের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। এর প্রভাব সরাসরি আমানত ব্যবস্থাপনায় পড়েছে। মাত্র সাত কার্যদিবসে গ্রাহকরা প্রায় ৪ হাজার ২৪০ কোটি টাকা উত্তোলন করায় ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী প্রতিটি ব্যাংককে নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ রিজার্ভ সংরক্ষণ করতে হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের রিজার্ভ অবস্থান আগে তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক থাকলেও সাম্প্রতিক উত্তোলনের চাপে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিজ্ঞাপন

ব্যাংকটির জন্য যেখানে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা সমপরিমাণ নগদ সংরক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে বর্তমান অবস্থান অনেক নিচে নেমে এসেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত চলতি হিসাবেও চাপ তৈরি হয়েছে, যা দৈনন্দিন লেনদেন ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

এই প্রেক্ষাপটে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জরুরি তারল্য সহায়তা হিসেবে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল চেয়ে আবেদন করেছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন আনা হয়। চেয়ারম্যান হিসেবে নতুন দায়িত্ব পান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলম। তবে এই নিয়োগের পর থেকেই ব্যাংকটির একটি অংশের কর্মকর্তা, শেয়ারধারী এবং গ্রাহকদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, ব্যাংকের সংস্কার কার্যক্রমকে সঠিক পথে রাখতে নেতৃত্বের বিষয়ে আরও সতর্ক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

অন্যদিকে, পরিচালনা পর্ষদের একটি অংশ এবং ব্যাংকিং খাতের কিছু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মনে করছেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে নতুন চেয়ারম্যান সংকট মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

ব্যাংকিং বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের মতো বড় আমানতভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকা উত্তোলন তাৎক্ষণিকভাবে অস্তিত্বের সংকট তৈরি করে না। তবে গ্রাহকদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়লে সেটি দীর্ঘমেয়াদে বড় ঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে।

তাদের মতে, যদি উত্তোলনের ধারা দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত থাকে এবং মোট উত্তোলনের পরিমাণ আরও কয়েক হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ব্যবস্থাপনা বা নীতিগত পর্যায়ে নতুন উদ্যোগ প্রয়োজন হতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গ্রাহকরা নগদ অর্থ তুলে নিচ্ছেন নাকি অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করছেন— সেটিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংক এমন কোনো অবস্থায় নেই যে গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হবে। অতীতেও অনুরূপ চাপের সময় প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছিল।

প্রয়োজনে এবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন এক বার্তায় বলেন, ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী রয়েছে এবং গ্রাহকদের আমানত নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি দাবি করেন, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় গ্রাহকদের একটি অংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রাহকদের সেবা প্রদানেও কোনো বিঘ্ন ঘটছে না।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD