বাংলা কিউআর লেনদেনের ১ শতাংশ ফি দেবেন কে?

বাংলা কিউআর (Bangla QR) কোড ব্যবহার করে মার্চেন্ট পেমেন্টের ক্ষেত্রে ভ্যাটসহ সর্বনিম্ন ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ সিদ্ধান্তের পর অনেক গ্রাহকের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এই সেবা ফি কি ক্রেতার কাছ থেকে কাটা হবে, নাকি দোকানদারের প্রাপ্য অর্থ থেকে সমন্বয় করা হবে?
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা স্পষ্ট। নতুন এমডিআরের অর্থ কোনো অবস্থাতেই গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত কেটে নেওয়া হবে না। বরং নির্ধারিত সেবা ফি মার্চেন্ট বা দোকানদারের প্রাপ্য অর্থ থেকেই সমন্বয় করা হবে।
অর্থাৎ, একজন ক্রেতা বাংলা কিউআর স্ক্যান করে যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করবেন, তার ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট থেকে ঠিক সেই পরিমাণ অর্থই কাটা হবে। এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো চার্জ গ্রাহককে বহন করতে হবে না।
আরও পড়ুন: যে হারে ছয় মাস মিলবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা
বিজ্ঞাপন
বিষয়টি আরও সহজভাবে বোঝাতে একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। ধরুন, একজন ক্রেতা একটি দোকান থেকে এক হাজার টাকার পণ্য কিনে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করলেন। এ ক্ষেত্রে তার হিসাব থেকে পুরো এক হাজার টাকাই কেটে নেওয়া হবে।
তবে দোকানদারের হিসাবে জমা হবে প্রায় ৯৯০ টাকা। অবশিষ্ট প্রায় ১০ টাকা, যা ভ্যাটসহ ১ শতাংশ এমডিআরের সমপরিমাণ, সংশ্লিষ্ট অ্যাকোয়ারিং ব্যাংক বা পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সেবা ফি হিসেবে কেটে রাখা হবে।
ফলে ক্রেতাকে অতিরিক্ত কোনো অর্থ দিতে হবে না। বরং দোকানদারের পাওনা অর্থ থেকেই নির্ধারিত ফি সমন্বয় করা হবে।
বিজ্ঞাপন
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ক্ষেত্রেও কিছুটা নমনীয়তার সুযোগ রেখেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ডিজিটাল লেনদেন আরও জনপ্রিয় করতে অ্যাকোয়ারিং ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান চাইলে নিজস্ব প্রচারণামূলক কর্মসূচির আওতায় এমডিআর আংশিক কমাতে বা সম্পূর্ণ নিজেদের পক্ষ থেকে বহন করতে পারবে।
এতে বিশেষ প্রচারাভিযান বা নির্দিষ্ট সময়ের অফারের মাধ্যমে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মার্চেন্টদের ওপরও এ ফি কার্যকর নাও হতে পারে। তবে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, এমডিআরের দায় থাকবে মার্চেন্টের ওপর, গ্রাহকের ওপর নয়।








