Logo

নবম পে-স্কেল নিয়ে বড় সুখবর জানালো সরকার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:৫২
নবম পে-স্কেল নিয়ে বড় সুখবর জানালো সরকার
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল নিয়ে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষরও করেছেন বলে সরকারের প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৭ আগস্ট) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে নবম পে-স্কেলসংক্রান্ত এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব

প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সুপারিশে নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা বেশি আর্থিক চাপে থাকায় তাদের বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ দ্বিগুণ হতে পারে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশের চেয়ে কিছুটা কম রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল বেতনের ব্যবধানের অনুপাত বর্তমান ১:৯ থেকে কমিয়ে ১:৮ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দুই ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ

নতুন পে-স্কেল একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে দুই ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রথম ধাপে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে। পরবর্তী বছরে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করলে সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পে-স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ব্যয়

নবম জাতীয় পে কমিশনের পুরো সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। বিপুল এই আর্থিক চাপের কারণে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও নিয়মিত ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতসহ মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে শুধু বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর করা হলে চলতি অর্থবছরের বাজেট থেকেই এর প্রাথমিক ব্যয় সামাল দেওয়ার সুযোগ থাকবে। পরবর্তী অর্থবছরে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে।

১০ সদস্যের সচিব কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত

বিজ্ঞাপন

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের বিশেষ উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

কমিটির সদস্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।

সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরেই পে-স্কেল ঘোষণা হবে: অর্থমন্ত্রী

এদিকে চলতি বছরের মধ্যেই নবম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিচারকদের পে-স্কেল পর্যালোচনাসংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, পে-স্কেল নিয়ে সরকারের আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব বিষয় পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা প্রকাশ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবও জানিয়েছিলেন, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে এবং বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই এটি বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

১২ বছর পর গঠিত হয় নবম পে কমিশন

২০১৩ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর পর ২০২৫ সালে নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। গত ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয়।

কমিশনের সুপারিশে বিপুল অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজনের বিষয়টি উঠে আসার পর তা পর্যালোচনার জন্য সচিব কমিটি গঠন করা হয়। অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বিচার বিভাগের বেতনসংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা বিবেচনায় পে-স্কেল বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সচিব কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নজর সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের দিকে। নতুন কাঠামো অনুমোদিত হলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD