Logo

ইসলামী ব্যাংকে পরীক্ষা ছাড়াই ৮৫৪২ জনের নিয়োগ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬:৪১
ইসলামী ব্যাংকে পরীক্ষা ছাড়াই ৮৫৪২ জনের নিয়োগ
ছবি: সংগৃহীত

এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে ১০ হাজার ৮৩২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮ হাজার ৫৪২ জনের নিয়োগে কোনো বিজ্ঞপ্তি বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা হয়নি বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত এসব নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে চট্টগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন ৮ হাজার ৯৯ জন। তাঁদের মধ্যে ৫ হাজার ১৪৮ জনের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়। কক্সবাজার, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, বগুড়া, ঢাকা, রাজশাহী, যশোর, গাইবান্ধা ও রংপুরের বাসিন্দারাও নিয়োগ পেয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের পটিয়ার বাড়ি ও চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ কার্যালয়ে জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার জন্য বাক্স রাখা হতো। পরিদর্শনের সময় দৈবচয়নের ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া ১০ কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্যও নেওয়া হয়। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই বাক্সে জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার পর সেখানেই মৌখিক পরীক্ষা ও নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হতো।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই ২৭টি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) পদে ২ হাজার ৭৮৯ জন, ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার পদে ২ হাজার ১৬০ জন, মেসেঞ্জার কাম গার্ড পদে ১ হাজার ৫৪৪ জন, আরডিএস প্রকল্পে ৯১৫ জন এবং ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার পদে ৫০১ জন নিয়োগ পান।

উচ্চপর্যায়ের পদেও একই ধরনের নিয়োগের তথ্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিবেদনে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই দুজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), আটজন ডিএমডি, দুজন এসইভিপি এবং একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল নিয়োগের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পাঁচজন ইভিপির মধ্যে চারজনকেও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রবেশনারি অফিসার নিয়োগেও অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৯ সালের ২৪তম ব্যাচে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ১৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ১২ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়ার শর্ত থাকলেও পরে তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়।

২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের যোগ্যতা যাচাইয়ে ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার ৩৭৩ জনকে এ পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৪০২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন এবং সবাই চাকরিতে বহাল রয়েছেন। পরবর্তীতে আরও ২৮৭ জনকে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ না নেওয়াসহ সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার পর ৪ হাজার ৬৮৫ জনকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মধ্যে ৪ হাজার ৪৪০ জন চট্টগ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া বিভিন্ন অভিযোগ, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া ও অন্যান্য কারণে আরও কর্মী চাকরি হারান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকের নিজস্ব মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার বিধান ছিল। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়ার শর্তও ছিল। তবে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগের বড় একটি অংশে এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে পরিদর্শনে উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, প্রকৃত অবস্থা জানতে কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD