বিশ্ববাজারে টানা তিন দিন কমল সোনার দাম, বাংলাদেশে ভরি কত?

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তিন দিন ধরে সোনার দাম কমছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দরপতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর প্রভাব সোনার বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিজ্ঞাপন
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২১ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ০.৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৪০ ডলার ৩৩ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য সোনার ফিউচার মূল্য ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬২ ডলার ৮০ সেন্টে দাঁড়ায়।
বিশ্ববাজারে সোনার ভরি কত টাকা?
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ১৪০ ডলার ৩৩ সেন্ট এবং ডলারের বিনিময়মূল্য ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করলে, প্রতি ভরি ২৪ ক্যারেট সোনার আনুমানিক দাম দাঁড়ায় ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বরের ফিউচার মূল্য অনুযায়ী প্রতি ভরি সোনার দাম প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
বিজ্ঞাপন
তবে এই হিসাব কেবল আন্তর্জাতিক বাজারদর ও আনুমানিক ডলারের বিনিময়মূল্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। বাংলাদেশের বাজারে সোনার প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ক্যারেট, আমদানি ব্যয়, মজুরি ও অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের এই হিসাবের সঙ্গে দেশের বাজারদরের পার্থক্য থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে নজর বিনিয়োগকারীদের
সোনার দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
বিজ্ঞাপন
Forex.com-এর বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় অনেক ব্যবসায়ী সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর মতে, নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশের পর ডলারের দামে পরিবর্তন আসতে পারে, যা সোনাসহ ডলারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সম্পদের বাজারে প্রভাব ফেলবে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সিপিআই প্রকাশের কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হওয়ার কথা উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্য। এসব পরিসংখ্যান থেকে দেশটির মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
তেলের দাম বৃদ্ধি সোনার বাজারে কেন চাপ তৈরি করছে?
বিজ্ঞাপন
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলার খবরের পর জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। একই সঙ্গে তেলের জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের নতুন কৌশল গ্রহণের প্রস্তুতির খবরও বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে এবং মূল্যস্ফীতির চাপও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হলে সোনার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, সোনা থেকে সরাসরি সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনার আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কমে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
বছরের শেষ দিকে সোনার দাম বাড়ার সম্ভাবনা
বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডলারের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দুর্বল হতে শুরু করলে সোনার মূল্য আবার বাড়তে পারে। তাঁর ধারণা, বছরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ ডলারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে।
তবে এটি বাজার বিশ্লেষকের একটি পূর্বাভাস, নিশ্চিত মূল্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান, ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, ডলারের মূল্য এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর সোনার ভবিষ্যৎ দর নির্ভর করবে।
বিজ্ঞাপন
রুপা ও প্লাটিনামের দামও কমেছে
বুধবার বিশ্ববাজারে সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ ডলার ৫৭ সেন্টে নেমে আসে। প্লাটিনামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৫৩ ডলার ১৮ সেন্টে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে, প্যালাডিয়ামের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৩২ ডলার ৭০ সেন্টে পৌঁছেছে।
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার এই দরপতন অব্যাহত থাকবে, নাকি বছরের শেষ দিকে আবার ঊর্ধ্বমুখী হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্য, সুদের হারসংক্রান্ত নীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতির ওপর।








