Logo

শীতের সবজির বাজারে স্বস্তি, চড়া মাছ-মাংসের দাম

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫২
শীতের সবজির বাজারে স্বস্তি, চড়া মাছ-মাংসের দাম
ছবি: সংগৃহীত

শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় রাজধানীর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার মতো মৌসুমি সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। তবে টমেটো, কাঁচামরিচ, গাজর ও গোল বেগুনের মতো কয়েকটি সবজির দাম এখনো বেশ চড়া। অন্যদিকে মাছ ও মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। আগের সপ্তাহের কাছাকাছি দামেই বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর উত্তরা ও বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় কয়েকটি পণ্যের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে এসেছে। বর্তমানে বাজারভেদে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আকার অনুযায়ী প্রতি পিস ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মুলার দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা।

এ ছাড়া ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জাত ও আকারভেদে বেগুনের দাম ৪০ থেকে ৭০ টাকা হলেও গোল বেগুন কিনতে গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ১২০ টাকা।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে টমেটো ও কাঁচামরিচের দাম কেজিপ্রতি ১২০ টাকা। গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। দেশি শসার দাম ৮০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি। ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি, করলা ও কাঁকরোল ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন

•

বিজ্ঞাপন

•

প্রতি পিস লাউ পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। পেঁপে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

উত্তরার আজমপুর সমবায় মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আরিফ বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ এখন অনেক বেড়েছে। এ কারণে বেশ কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে সামনের দিনগুলোতে দাম আরও কমতে পারে।

বিজ্ঞাপন

একই বাজারের আরেক বিক্রেতা সোহাগ মিয়া বলেন, শীতের সবজি আসতে শুরু করায় আগের তুলনায় দাম কমেছে। তবে এখনো সব ধরনের শীতকালীন সবজি বাজারে পুরোপুরি আসেনি। সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমবে। তাঁর ভাষ্য, ফুলকপি ও বাঁধাকপি আকারভেদে প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং কেজিপ্রতি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে স্বস্তি নেই

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছ কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। অধিকাংশ মাছের দাম আগের সপ্তাহের মতোই রয়েছে। বর্তমানে আকারভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া কাতলা মাছের কেজি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা। তবে ইলিশের দাম এখনো ক্রেতাদের জন্য বড় চাপ। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। কোনো কোনো বাজারে বড় ইলিশের দাম উঠেছে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত।

মাংসের দামও অপরিবর্তিত

মাছের মতো মাংসের বাজারেও দামের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে গরুর মাংসের কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা। আগের সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো হেরফের হয়নি।

টিসিবির তথ্যেও নিত্যপণ্যের মিশ্র চিত্র

এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের প্রতিবেদনেও নিত্যপণ্যের দামে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। সংস্থাটির ৫ নভেম্বর প্রকাশিত খুচরা বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, বেগুন, ফার্মের ডিম, ছোলা, সুগন্ধি পোলাও চাল ও আমদানি করা আদার দাম কমেছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে একই সময়ে প্যাকেট ময়দা, খোলা পাম তেল ও চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে। বাকি অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের সপ্তাহের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে।

সব মিলিয়ে আগাম শীতের সবজিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ, মাংস ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের খরচে বড় কোনো পরিবর্তন না আসায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের বাজারের চাপ এখনো কমেনি।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD