Logo

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বীরত্বগাথা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুন, ২০২৬, ১৩:২৬
পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বীরত্বগাথা
ছবি: সংগৃহীত

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বীরত্বগাথা আগামী শিক্ষাক্রমের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে তার জীবন, কর্ম, শাহাদাত এবং পরবর্তী ঘটনাগুলো শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচিতে তুলে ধরা হবে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১০ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটির একাধিক সদস্য জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বেশ কিছু পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ শীর্ষক প্রবন্ধের আলোকে নতুন পাঠ সংযোজনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সভায় জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদিকে পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও মতামত দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর নতুন শিক্ষাক্রমে তার জীবন ও বীরত্বগাথা শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

সূত্র জানায়, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ অধ্যায়ে তিতুমীর, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, নূর হোসেন, আবু সাঈদ ও মীর মুগ্ধকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, একই কাঠামো অনুসরণ করে ওসমান হাদিকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি)।

বিজ্ঞাপন

জুলাই অভ্যুত্থানের পর শিক্ষাক্রম পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। পরবর্তীতে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে পাঠ্যবইয়ে বিভিন্ন পরিমার্জন আনা হয়। পরে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর নীতিগত সিদ্ধান্তে ২০২৮ সালকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সন্তান হাদির বাবা একজন মাদরাসা শিক্ষক। তিনি নেছারাবাদ কামিল মাদরাসায় পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়ন করেন। পরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।

বিজ্ঞাপন

জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা হাদি পরে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গঠন করে আলোচনায় আসেন। ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD