Logo

‘খুনি খালেদার বিচার চাই’ স্লোগান দেওয়া সেই ৫ কর্মকর্তা বাদ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুন, ২০২৬, ১৮:০৩
‘খুনি খালেদার বিচার চাই’ স্লোগান দেওয়া সেই ৫ কর্মকর্তা বাদ
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একটি জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষা কর্মসূচির আয়োজন কমিটি থেকে পাঁচ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিতর্কিত স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে তাদের নাম নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে শেষ পর্যন্ত কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি) পরিচালিত “স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং” কর্মসূচির জাতীয় পর্যায়ের আয়োজনকে সামনে রেখে একটি প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

আগামী ২৮ জুন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা।

বিজ্ঞাপন

তবে প্রাথমিকভাবে গঠিত কমিটিতে এমন কয়েকজন কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট শিক্ষা ভবনে অনুষ্ঠিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষা ক্যাডারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রথম তালিকাটি ছিল খসড়া পর্যায়ের। সেখানে কয়েকজন বিতর্কিত কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত কমিটি প্রস্তুতের সময় তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সংশোধিত তালিকায় বিতর্কিত ব্যক্তিদের রাখা হয়নি এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন মাউশির বাজেট শাখার সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, এসইডিপি প্রকল্পের গবেষণা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, বিশেষ শিক্ষা শাখার উপপরিচালক তারিকুল ইসলাম, এসইডিপি প্রকল্পের পরিসংখ্যানবিদ মো. ওয়াহিদুর রহমান এবং প্রকল্পের উপপরিচালক মাহবুবা ইয়াসমীন।

তাদের কেউ কেউ একাধিক উপকমিটিতে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এর মধ্যে আতিথেয়তা, অনুষ্ঠান পরিচালনা, প্রতিযোগী সমন্বয়, পুরস্কার বিতরণ, পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং মিডিয়া ও ডিজিটাল সাপোর্টসংক্রান্ত দায়িত্বও ছিল।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন অভিযোগ ওঠে যে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় শিক্ষা ভবনে আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন কর্মকর্তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আয়োজনের দায়িত্বে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষা ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, তাদেরকে কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তাদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে পূর্বে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসইডিপি প্রকল্পের গবেষণা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, তাকে ঘিরে যে অভিযোগ উঠেছে তা ভুল বোঝাবুঝির ফল। তিনি বলেন, ওইদিন তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেননি এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিতও করেছেন।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে বিশেষ শিক্ষা শাখার উপপরিচালক তারিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার নামে যে তথ্য প্রচার হচ্ছে তা সঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটির সঙ্গে অন্য একজন একই নামের কর্মকর্তাকে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে।

পরিসংখ্যানবিদ মো. ওয়াহিদুর রহমান অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। আর মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মাহবুবা ইয়াসমীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

মাউশির প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট পাঁচ কর্মকর্তার নাম বাদ দিয়ে আয়োজক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। মাউশির সাধারণ প্রশাসন শাখা থেকেও নতুন তালিকা প্রস্তুতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রশাসনিক বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশব্যাপী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্ভাবনী কার্যক্রম, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প এবং স্টার্টআপ উদ্যোগ তুলে ধরা হবে। উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা শেষে নির্বাচিতদের পুরস্কৃত করা হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD