শিক্ষকদের বেতন নিয়ে নতুন তথ্য জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

মাদরাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মে ও জুন—এই দুই মাসের বকেয়া বেতন আগামী জুলাই মাসে একসঙ্গে পরিশোধ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে শিক্ষাখাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন জটিলতার বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বেতন না পাওয়ার কারণে শিক্ষক-কর্মচারীরা যে সমস্যার মধ্যে রয়েছেন, সে বিষয়ে সরকার অবগত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এক মাসের বেতন বন্ধ থাকলেও একজন শিক্ষককে কতটা কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করতে হয়, তা তিনি উপলব্ধি করেন।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষক মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাদের বেতন-ভাতার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন পেতে সমস্যার মুখে পড়েছেন।
তিনি বলেন, এ কারণে বর্তমানে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে। আগামী মাসেই বকেয়া বেতন পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ড. এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিকল্পনার ঘাটতি ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাবে এমন কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বর্তমানে শিক্ষা খাতেও পড়ছে। এসব সমস্যা ধাপে ধাপে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
বেতন পরিশোধের বিষয়ে তিনি বলেন, তার হাতে থাকা ১০০ কোটি টাকা জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যেসব শিক্ষক ও কর্মচারীর হিসাব জনতা ব্যাংকে রয়েছে, তারা ইতোমধ্যে বেতন পেয়েছেন। তবে অন্য ব্যাংকের হিসাবধারীরা এখনও বেতন পাননি।
এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা এখনও বেতন পাননি, তাদের ভোগান্তির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং দ্রুত সমাধানে কাজ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সভায় উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বেতন সংক্রান্ত জটিলতা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর জুলাই মাসেই মে ও জুন—দুই মাসের বেতন একসঙ্গে পরিশোধ করা হবে।








