রাত পোহালেই এইচএসসি পরীক্ষায় বসছে ১২ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী

দেশব্যাপী উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)। প্রথম দিনের পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা প্রথমপত্র অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি) শাখার বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষাও নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
সব বোর্ডে পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।
চলতি বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ছাত্র রয়েছেন ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। সারা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
নকল প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা
বিজ্ঞাপন
সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যে শিক্ষা বোর্ডগুলো একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিসহ প্রতিটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষ পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন। তবে কোনো কক্ষে দুইজনের কম পরিদর্শক রাখা যাবে না। পরীক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। ৫ ফুট বাই ৬ ফুট বেঞ্চে সর্বোচ্চ দুইজন এবং ৪ ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে সবাইকে নিজ নিজ পরীক্ষার কক্ষে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ কারণে কেউ দেরিতে এলে তার তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
প্রশ্নপত্রে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা
প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক স্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করা হবে।
বিজ্ঞাপন
পরীক্ষার দিন ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের নিরাপত্তায় প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছাবে। মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে কোনো প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সব কেন্দ্রে বাধ্যতামূলক সিসিটিভি
এবার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ক্যামেরার আইডি, পাসওয়ার্ড, ব্র্যান্ড, ডিভাইসের সিরিয়াল নম্বর এবং ডিভিআর বা এনভিআরের তথ্য শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোথাও সিসিটিভি অকার্যকর পাওয়া গেলে বা নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও কেবল সাধারণ হাতঘড়ি ব্যবহার করার অনুমতি থাকবে। অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তির প্রবেশ নিষিদ্ধ, টয়লেট তল্লাশি, প্রশ্ন ও উত্তরপত্র পরিবহনে পুলিশের সম্পৃক্ততা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র আলাদাভাবে সংরক্ষণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
কন্ট্রোল রুম চালু
এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে সার্বিক সমন্বয় ও জরুরি যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। প্রয়োজনে পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। নকল, প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষাকেন্দ্রিক গুজব ছড়ানোর মতো যে কোনো অপরাধ কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








