Logo

এইচএসসির প্রথম দিনে সিলেবাস ও যানজট নিয়ে অভিভাবকদের অসন্তোষ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ জুলাই, ২০২৬, ১৩:০৩
এইচএসসির প্রথম দিনে সিলেবাস ও যানজট নিয়ে অভিভাবকদের অসন্তোষ
ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ পরীক্ষা চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। প্রথম দিনের পরীক্ষা ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষের চিত্র দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে হঠাৎ ফিরে আসার সিদ্ধান্ত এবং রাজধানীর তীব্র যানজট পরীক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রথম দিনে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএম) শাখার বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষাকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, অনেক অভিভাবক মনে করছেন, পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্রের সিদ্ধান্ত আরও আগে জানানো হলে শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেত।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবক সুবর্ণা বিশ্বাস বলেন, তার ছেলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তার মতে, পরীক্ষা শুরুর মাত্র এক-দুই মাস আগে নয়টি শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্র ও পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস কার্যকর করার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এতে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট থাকায় অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। তবে দায়িত্বরত পুলিশ ও শিক্ষকদের সহযোগিতার কারণে ২০ থেকে ৩০ মিনিট দেরিতে আসা কয়েকজন পরীক্ষার্থীও কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। ভবিষ্যতে পরীক্ষার দিনগুলোতে যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

শাহজাহানপুরের মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষমাণ আরেক অভিভাবক সিরাজুল ইসলামও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আরও আগেভাগে জানানো হলে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বেশি প্রস্তুত থাকতে পারত।

বিজ্ঞাপন

অভিভাবক আরাব ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়ার পরিবর্তে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিলে তারা আরও ভীত হয়ে পড়ে। তার মতে, পরীক্ষার্থীরা এখনও কৈশোর পর্যায়ে রয়েছে, তাই তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হঠাৎ সিলেবাস পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও অনেক শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি মনে করেন।

আরেক অভিভাবক কামরুজ্জামান বলেন, নতুন সিলেবাস এ বছর নয়, ২০২৭ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর করা উচিত ছিল। তিনি বলেন, কোনো বড় পরিবর্তন আনতে হলে অন্তত এক বছর আগে ঘোষণা দেওয়া প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারে।

বিজ্ঞাপন

অভিভাবক ময়না নাহারও একই ধরনের মতামত দেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভয় না দেখিয়ে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, শিক্ষা-সংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

এদিকে, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪। দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD