অনেক শিক্ষার্থী লেখাপড়া না করায় এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি

দেশে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরুর মধ্যেই নিয়মিত নিবন্ধিত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, অনেক শিক্ষার্থী লেখাপড়া না করায় এবার পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে যথাযথভাবে লেখাপড়া করতে হবে—এ বিষয়টি শিক্ষার্থীরা এখন উপলব্ধি করেছে। কিন্তু অনেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে না পারায় ফরম পূরণ করেনি এবং পরীক্ষাতেও বসেনি।
শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য, এসএসসি বা দাখিলের পর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে কিছু শিক্ষার্থীর ঝরে পড়া অতীতেও ছিল। সামাজিক ও পারিবারিক নানা কারণে বিশেষ করে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যেত। তবে এবার ঝরে পড়ার হার স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় বেশি হওয়ায় বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান আরও কার্যকর করা, শিক্ষকদের মনিটরিং জোরদার করা এবং সিলেবাস, কারিকুলাম ও শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি আরও পরিকল্পিতভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এত বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়, সে লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৮৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৩২ জন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করে। কিন্তু তাদের মধ্যে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৯ জন এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। শতাংশের হিসাবে এ হার ৩৬ দশমিক ৪৩।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরিসংখ্যান বলছে, নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬১ জন নিয়মিত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭৭ জন এবার পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছে। অন্যদিকে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৪ জন ফরম পূরণ করেনি, যা মোট শিক্ষার্থীর ৩৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।
বিজ্ঞাপন
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দাখিল পাসের পর আলিম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া এক লাখ ৩৯ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৭৮ হাজার ২৬৯ জন। বাকি ৬১ হাজার ৬৬০ জন ফরম পূরণ না করায় ঝরে পড়ার হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি ঝরে পড়ার চিত্র দেখা গেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে। এসএসসি পাসের পর একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধিত এক লাখ ৬৫ হাজার ৫৪২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৭৫ হাজার ১৯৭ জন এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। ফলে ৯০ হাজার ৩৪৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার বাইরে রয়েছে, যা মোট নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
বিজ্ঞাপন
এদিকে শিক্ষাক্ষেত্রের সংশ্লিষ্টরা এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন। তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষায় এ প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে শিক্ষার পরিবেশ, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, সামাজিক কারণ, শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ এবং অন্যান্য বহুমাত্রিক বিষয় রয়েছে। তাই সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
তাদের অভিমত, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানে সম্পৃক্ত রাখা, মানসিক সহায়তা বৃদ্ধি, অভিভাবক-শিক্ষক সমন্বয় জোরদার এবং সময়োপযোগী শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ঝরে পড়ার হার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।








