এসএসসি খাতা চ্যালেঞ্জে আবেদন ছাড়াল তিন লাখ, সময় আরও দুই দিন

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে। ফল প্রকাশের পর পঞ্চম দিনে শনিবার (১৫ আগস্ট) পর্যন্ত তিন লাখের বেশি শিক্ষার্থী এ আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থীদের জন্য পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগ থাকছে আরও দুই দিন। আগামী সোমবার (১৭ আগস্ট) পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। এবার শুধু খাতা পুনর্নিরীক্ষণ নয়, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগও থাকছে।
রেকর্ড সংখ্যক আবেদন
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল গত ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এবার গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ফলাফলে প্রত্যাশিত নম্বর না পাওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করছেন। ১১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া আবেদন শনিবার পর্যন্ত তিন লাখ ছাড়িয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবেদনকারীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করতে হলে শিক্ষা বোর্ডগুলোকে বড় ধরনের কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করতে হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদন করা উত্তরপত্র সংগ্রহ, পুনরায় নম্বর যাচাই, নম্বর যোগের বিষয় পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য আবার সিস্টেমে ইনপুট দেওয়ার মতো একাধিক ধাপ রয়েছে। এত বিপুল আবেদন সামাল দিতে অতিরিক্ত পরীক্ষকও প্রয়োজন হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
আবেদন করতে প্রথমে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ করতে হবে। পরবর্তী ধাপে একটি মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর ওই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।
বিজ্ঞাপন
এরপর শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। যে বিষয় বা বিষয়গুলোর ফল পুনর্নিরীক্ষণ করাতে চান, সেগুলো নির্বাচন করে ফি পরিশোধের ধাপে যেতে হবে।
প্রতি পত্রের ফি ১৫০ টাকা
পুনর্নিরীক্ষণের জন্য প্রতিটি পত্রে ১৫০ টাকা করে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো বিষয়ে দুটি পত্র থাকলে উভয় পত্রের জন্যই আবেদন করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
নির্ধারিত ফি বিকাশ, নগদ ও সোনালী সেবার মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধের পর আবেদন পোর্টালে ফিরে গিয়ে আবেদন জমা দিতে হবে।
একবার আবেদন জমা দেওয়ার পর নতুন কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত বিষয়ের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
অন্যদিকে, ফি দেওয়ার আগে কোনো বিষয় বাদ দিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি প্রত্যাহার করে নতুন করে বিষয় নির্বাচন করা যাবে। কিন্তু একবার ফি পরিশোধ হয়ে গেলে আবেদন করা বিষয় বাতিল করা যাবে না। পরিশোধ করা ফিও ফেরত দেওয়া হবে না।
বিজ্ঞাপন
এবার খাতা পুনর্মূল্যায়নেরও সুযোগ
এবারের এসএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। প্রচলিত পুনর্নিরীক্ষণের পাশাপাশি উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগও রাখা হয়েছে।
ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, কোনো শিক্ষার্থীকে ভুল নম্বর দেওয়া হলে কিংবা তার প্রাপ্য নম্বর যথাযথভাবে দেওয়া না হলে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হবে।
বিজ্ঞাপন
এ জন্য রিভিউ কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। কমিটির মাধ্যমে উত্তরপত্র পরীক্ষা করে শিক্ষার্থী যে নম্বর পাওয়ার যোগ্য, তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আগের ব্যবস্থায় মূলত ট্যাবুলেশন শিটের তথ্য যাচাইয়ের মধ্যেই পুনর্নিরীক্ষণ সীমাবদ্ধ ছিল। উত্তরপত্র নতুন করে দেখে পরীক্ষক যথাযথ নম্বর দিয়েছেন কি না, তা যাচাইয়ের সুযোগ ছিল সীমিত। এবার আইনগত পরিবর্তনের ফলে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিপুল আবেদন সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ
বিজ্ঞাপন
এবারের আবেদনের সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ায় শিক্ষা বোর্ডগুলোর সামনে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। প্রতিটি আবেদন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট উত্তরপত্র বের করে পুনরায় যাচাই করতে হবে।
এর সঙ্গে নম্বর গণনা, প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে নথিভুক্ত নম্বর মিলিয়ে দেখা এবং প্রয়োজন হলে সংশোধিত ফলাফল সিস্টেমে সংযুক্ত করার কাজও করতে হবে।
শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, আবেদন শেষ হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করতে উল্লেখযোগ্য সময় ও জনবল প্রয়োজন হবে। এজন্য নতুন করে পরীক্ষক নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
ফলে ফলাফলে অসন্তুষ্ট যেসব শিক্ষার্থী এখনো পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেননি, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। ১৭ আগস্টের পর নতুন করে আবেদন করার সুযোগ থাকবে না।








