Logo

৩০ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলায় পৌঁছাবে ২০২৭ সালের সব বই

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৮
৩০ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলায় পৌঁছাবে ২০২৭ সালের সব বই
ফাইল ছবি

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে পরিমার্জিত পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম জোরদার করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

বিজ্ঞাপন

সংস্থাটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় শতভাগ মানসম্মত বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বাসসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ী, মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তর মিলিয়ে এবার মোট ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি বই ছাপানো হবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বইও রয়েছে।

বইয়ের মান নিশ্চিত করতে মুদ্রণ থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ে গ্রহণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে মোট ৫৩টি মনিটরিং দল মাঠে কাজ করছে। মানদণ্ড পূরণ না করায় ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে চার লাখ ছাপানো ফর্মা এবং ২৭ হাজার নিম্নমানের বই বাতিল করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মাদ গোলাম ফখরুল মাওলা বলেন, ‘এ বছর বইয়ের মানের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গুণগত মান বজায় না থাকায় ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ বইয়ের ছাপানো ফর্মা এবং ২৭ হাজার নিম্নমানের ছাপানো বই বাতিল করা হয়েছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ মানসম্মত ও নিখুঁত পাঠ্যবই উপজেলায় পৌঁছাতে মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে প্রেস ও মাঠপর্যায়ে অসাধু চক্রের আঁতাতের সুযোগ থাকলেও এবার পাঠ্যবই গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ওপর প্রত্যক্ষ মান যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রিসিভ করার পরও বইয়ের মান নিয়ে কোনো বিচ্যুতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট গ্রহীতা কর্মকর্তাকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

কোন স্তরে কত বই ছাপা হয়েছে

২২ সেপ্টেম্বরের উৎপাদন প্রতিবেদনের হিসাবে, প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৪২ লাখ ৬৬ হাজার ২৫৩টি বা ৭৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ ছাপা হয়েছে। প্রাথমিক স্তরে ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে মুদ্রণ শেষ হয়েছে ২ কোটি ৮০ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৬টি, যা মোটের ৩৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আর মাধ্যমিক স্তরের ২২ কোটি ১১ লাখ ৮২ হাজার ৫৯২টি বইয়ের মধ্যে ১ কোটি ৫২ লাখ ৬৪ হাজার ৪০০টি বা ৭ শতাংশ ছাপা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এনসিটিবির বিতরণ শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, প্রাক-প্রাথমিকের বই ছাপার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে বাঞ্ছারামপুর, সরাইলসহ কয়েকটি উপজেলায় বই পাঠানো শুরু হয়েছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে সব উপজেলায় বই পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ইংরেজি ভার্সন ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিশেষ বই জেলা পর্যায়ে পাঠানো হবে।

৯১ প্রেসে চলছে মুদ্রণ

এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১১৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বর্তমানে ৯১টি প্রেসে বই ছাপার কাজ চলছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য বড় প্রেসগুলোতে জেনারেটর ব্যাকআপ রাখা হয়েছে। স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বইয়ের কাগজের জিএসএম ও মুদ্রণমান যাচাইয়ে প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন (পিডিআই) ছাড়াও ল্যাব পরীক্ষা করা হচ্ছে। র‌্যান্ডম ভিত্তিতে নয়টি প্রেসের কাগজের নমুনা বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) পরীক্ষা করা হয়েছে এবং প্রতিবেদনে নমুনাগুলো মানসম্মত পাওয়া গেছে বলে এনসিটিবি জানিয়েছে।

মাঠে ৫৩ মনিটরিং টিম

বই মুদ্রণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম ঠেকাতে এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৫৩টি মনিটরিং দল কাজ করছে। এর মধ্যে এনসিটিবির ৩৩টি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাতটি দল ছাপাখানাগুলোতে নজরদারি চালাচ্ছে। পাশাপাশি এনসিটিবির সচিব ও সদস্যদের নেতৃত্বে পাঁচটি বিশেষ দল মাঠপর্যায়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে বই সরবরাহে কোনো ধরনের নিম্নমানের কাগজের বই বরদাশত করা হবে না। সরকার বাজারদর যাচাই করে এবার যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করেছে, যাতে কম মূল্যের অজুহাতে কেউ নিম্নমানের বই তৈরির সুযোগ না পায়। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে কোনো মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

বিজ্ঞাপন

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হাতে যথাসময়ে বই পৌঁছে দিতে আমাদের রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ চলছে। প্রেস মালিকদের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বই সরবরাহ শেষ করার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠে নিয়োজিত টিমগুলো প্রতিদিন প্রেসে অবস্থান করে কাজ তদারকি করছে। আমাদের মূল লক্ষ্য— বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা যেন নতুন ক্লাসের পুরো সেট বই হাতে পায়।’

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত অনুমোদনও ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। আগস্টে প্রাথমিক স্তরের ৭ কোটি ৩৫ লাখ বই মুদ্রণের একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD