অপেক্ষার অবসান, অবশেষে নিয়োগপত্র পাচ্ছেন ১৪ হাজার শিক্ষক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হবে আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে নতুন শিক্ষকদের নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বিজ্ঞাপন
নিয়োগপত্র পাওয়ার পর আগামী ১ অক্টোবর নিজ নিজ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে এসব শিক্ষকের। এরপর ৪ অক্টোবর থেকে তাদের কর্মস্থলে পদায়ন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
নরসিংদী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিরঞ্জন কুমার রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আজ নির্দেশনা পেলাম। এই মাসের ২৪ তারিখ অর্থ্যাৎ বৃহস্পতিবারের মধ্যে নিয়োগপত্র ছাড়তে হবে।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে বিভাগভিত্তিক সভা চলছে। ঢাকা বিভাগের সভা শেষ হয়েছে এবং অন্য বিভাগগুলোর সভা চলমান রয়েছে।
নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব বলেন, অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপত্র ছাড়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। এখন জেলা অফিসগুলো থেকে নিয়োগপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে।
বিজ্ঞাপন
নিয়োগপত্র প্রার্থীদের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণত নিয়োগপত্র ডাকযোগে রেজিস্ট্রি করে পাঠানো হয়।
চট্টগ্রামের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহাম্মদও জানান, বৃহস্পতিবারই নিয়োগপত্র দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণের প্রস্তুতিও চলছে। তাদের দুই মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রশিক্ষণ শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিজ্ঞাপন
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী জানান, পদায়নের পরপরই প্রশিক্ষণ শুরু করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণ চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পদায়ন হলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে। দুই মাস প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি স্কুলে ক্লাস নিতে পারবেন। তবে প্রশিক্ষণ কবে থেকে শুরু হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি পদায়নের দিন থেকেই হয়তো প্রশিক্ষণ শুরু করা যায় কি না।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রশিক্ষণের সময়সূচি চূড়ান্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহ্মদ জানিয়েছেন, নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।
১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিতে প্রয়োজনে ডাবল শিফটে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রশিক্ষণ আবাসিক নাকি অনাবাসিক হবে, সে বিষয়েও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হতে না পারলে নিয়োগ বাতিল হবে কি না, এ বিষয়েও এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। নেপ মহাপরিচালক জানান, প্রশিক্ষনে উত্তীর্ণ না হলে নিয়োগ বাতিল হওয়ার কথা বলে মনে হয় না। তবে এ বিষয়ে নীতিমালায় নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।








