Logo

৪ শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০:২৪
৪ শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং, ইনকোয়েরি ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হবে কি না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চার আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসীন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

রিটকারীরা হলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, এম লিটন আহমেদ, রাশেদুল হক খোকন ও বিপ্লব কুমার দাস। তাদের দাবি, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এ ধরনের তদন্ত বা অনুসন্ধান কমিটি গঠনের আইনগত এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই।

রিটে বলা হয়েছে, গত ৪ আগস্ট একটি অনলাইন পোর্টালে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে রিটকারীরা দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

তাদের বক্তব্য, যাচাইহীন ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গঠিত তথ্য-অনুসন্ধান, ইনকোয়েরি ও তদন্ত কমিটিগুলো বিলুপ্ত এবং পরবর্তী সময়ে নেওয়া পদক্ষেপ প্রত্যাহারের আবেদন করা হলেও তা নিষ্পত্তি করা হয়নি। পরে তারা হাইকোর্টে রিট করেন।

বিজ্ঞাপন

হাইকোর্টের রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, ওই সংবাদকে ভিত্তি করে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত সব তথ্য-অনুসন্ধান, ইনকোয়েরি ও তদন্ত কমিটি এবং এসব কমিটির মাধ্যমে নেওয়া পদক্ষেপকে আইনগত এখতিয়ার বা কর্তৃত্ব ছাড়া গঠিত ও নেওয়া হয়েছে—এ কারণে সেগুলোকে বেআইনি ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না কেন।

একইসঙ্গে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গঠিত এসব ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং, ইনকোয়েরি ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হবে না কেন, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

উল্লেখিত অনলাইন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষক গোপনে তৎপরতা চালাচ্ছেন। টেলিগ্রামে খোলা একটি গোপন গ্রুপের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

প্রতিবেদনটিতে ওই টেলিগ্রাম গ্রুপের নাম ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ বলে উল্লেখ করা হয়। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামানকে সভাপতি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রুপটির ২৮ পৃষ্ঠার বিভিন্ন স্ক্রিনশটে ৪০৪ জনের নাম শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের সাংকেতিক নাম ব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়। এছাড়া আরও ২১ জনের শুধু মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।

গ্রুপটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে সদস্যরা নিয়মিত বৈঠক করতেন। এসব দাবির ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গঠিত কমিটি ও নেওয়া পদক্ষেপের আইনগত বৈধতা নিয়েই এখন হাইকোর্টে প্রশ্ন উঠেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD