Logo

সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে চীনের সঙ্গে কাজের সুযোগ: শিক্ষামন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:৩৫
সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে চীনের সঙ্গে কাজের সুযোগ: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে কাজ করতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ, সাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে দ্বিতীয় চায়না-বাংলাদেশ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিনিময় গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দ্বিতীয় বড় সম্পদ হলো ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতি। ১৯৮১ সালের ১৭ জানুয়ারি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেরা শিক্ষক, শিল্পী, অধ্যাপক ও ছাত্রদের নিয়ে বঙ্গোপসাগরে একটি সফর করেছিলেন। “হিজবুল বহর” নামের একটি জাহাজে আয়োজিত সেই সফরে আমিও উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি আমাদের দেখিয়েছিলেন কীভাবে সমুদ্রের তলদেশের সম্পদ অনুসন্ধান ও ব্যবহারের উপযোগী করা যায়। সেখানে আমরা দুই রাত তিন দিন অবস্থান করেছিলাম।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের ২০০ নটিক্যাল মাইল এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন রয়েছে, যা এক লাখ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত। এই বিশাল সমুদ্রে লুকিয়ে আছে প্রচুর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। বর্তমানে চীনা গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরা এ বিষয়ে কাজ করছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে গবেষণার জন্য সমুদ্র অর্থনীতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত। বর্তমান সরকার সমুদ্র অর্থনীতি ও সার্কুলার ইকোনমি কেন্দ্রিক বিশেষায়িত গবেষণায় গুরুত্ব দিচ্ছে।’

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক বহু বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। আবহাওয়া যাই হোক না কেন—আকাশ রোদঝলমলে থাকুক, মেঘলা থাকুক, ঝড় বা বৃষ্টি হোক—চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সবসময় অটুট ও চলমান।’

বিজ্ঞাপন

জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘একসময় চীনও উচ্চ জনসংখ্যার দেশ ছিল। পরবর্তীতে তারা এই জনসংখ্যাকে জাতীয় সম্পদে পরিণত করেছে এবং আজকের বিশ্ব অর্থনীতিতে চীন একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। আমাদের দেশেও বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে। আমরা প্রায়ই বলি, আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত। কিন্তু চীনের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের জনসংখ্যাই প্রধান সম্পদে পরিণত হতে পারে। এখন সময় এসেছে আমাদের জনমিতিক সুবিধার সঠিক সদ্ব্যবহার করার।’

দেশের মানবসম্পদকে সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানবসম্পদ। আমাদের দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষই কর্মক্ষম যুবসমাজ। ১৮ কোটি মানুষের এই জনমিতিক সুবিধা আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে যখন জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের কাছে রয়েছে একটি তরুণ ও প্রাণবন্ত জনগোষ্ঠী।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমি চীন সফর করেছিলাম দেখার জন্য যে তারা কীভাবে প্রযুক্তির সহায়তায় জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করেছে। শিল্পখাত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তারা যে সমন্বয় গড়ে তুলেছে তা প্রশংসনীয়।’

শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ ধীরে ধীরে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। টেকসই সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হওয়ায় দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রযুক্তিগত ও কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পাশাপাশি কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD