প্রাথমিকের নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীদের অনশন স্থগিত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিয়োগের আশ্বাস পেয়ে আমরণ অনশন স্থগিত করেছেন। অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগের বিষয়ে সমাধান না হলে আগামী মাস থেকে আবারও লাগাতার কর্মসূচিতে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মধ্যরাতে অনশন স্থগিতের ঘোষণা দেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রার্থী জাহিদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুর রহিম ও পরিচালক (প্রশাসন) কামরুল ইসলামের আশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা আমরণ অনশন স্থগিত করেছি। অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নির্দেশক্রমে আজ বঞ্চিত সব প্রার্থী আবেদন জমা দেবো।’
জাহিদ হাসান আরও বলেন, ‘চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যে নিয়োগের বিষয়ে কোনো সুরাহা না হলে আগামী মাস থেকে আবারও লাগাতার কর্মসূচি পালন করবো আমরা।’
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নিয়োগবঞ্চিত পাঁচজন প্রার্থী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুর রহিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রায় ২০ মিনিটের আলোচনায় তাঁদের প্রত্যেককে আলাদাভাবে আবেদন জমা দিতে বলা হয়।
বিজ্ঞাপন
কর্মকর্তারা তাঁদের জানান, আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয় নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে, নিয়োগবঞ্চিত ২৬ জন প্রার্থী অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে প্রবেশপত্রের কপি ও স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রত্যেক প্রার্থী পৃথকভাবে আবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে আবেদন জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া কত দিনে শেষ হবে এবং নিয়োগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে আসবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
বিজ্ঞাপন
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও ৮৩ জন প্রার্থী এখন পর্যন্ত নিয়োগপত্র পাননি। তাঁদের অভিযোগ, নিয়োগপত্র না দেওয়ার কারণও স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ পরিস্থিতিতে নিয়োগের দাবিতে গত ১১ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন ২০২৫ ব্যাচের বঞ্চিত প্রার্থীরা।
টানা প্রায় ৬২ ঘণ্টা অনশন চলাকালে বেশ কয়েকজন প্রার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসে অনশন স্থগিত করে পৃথক আবেদন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
এখন আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের পরবর্তী পদক্ষেপ। অক্টোবরের মধ্যে সমাধান না এলে নভেম্বর থেকে আবারও লাগাতার কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছেন তাঁরা।








