Logo

খাতা দেখায় ত্রুটি হয়েছে কি না জানি না, ফল নিয়ে উদ্বিগ্ন: শিক্ষামন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:০৪
খাতা দেখায় ত্রুটি হয়েছে কি না জানি না, ফল নিয়ে উদ্বিগ্ন: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে বড় কোনো ত্রুটি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন তিনি। খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর ফলাফলে অসংগতি ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গত কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও এবার সেই সংখ্যা কমে প্রায় ৪০ হাজারে নেমে আসার কারণ এবং আগের বছরগুলোর ফল তদন্ত করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘খাতা দেখায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি। ফলাফলে কোনো অসংগতি থাকলে শিক্ষার্থীরা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে। এরপর বোঝা যাবে, এবার ফলাফলে কী ধরনের পরিবর্তন আসে।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘গতবার পুনর্নিরীক্ষণে অনেক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এবার কী হয়, সেটি আমরা দেখতে চাই। শিক্ষকদের বা পরীক্ষকদের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। আপাতত বলতে পারি, ফল নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। তবে ফলাফলে কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা এখনো নির্ধারণ করতে পারিনি। পুনর্নিরীক্ষণের পর বিষয়টি বোঝা যাবে।’

বিজ্ঞাপন

শিক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন থেকে শুরু করে ফল প্রকাশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। এর আগে এসএসসি পরীক্ষার প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়। এতে প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন।

পুনর্নিরীক্ষণে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনাকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেন ড. এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এক্সামিনেশন সিস্টেমকে আবার আমরা রি-এক্সামিন করবো।’

উত্তরপত্র মূল্যায়নে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং যেসব পরীক্ষকের মূল্যায়নে বেশি গরমিল পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এসব উদ্যোগের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী চান, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় যেভাবে উত্তর লিখেছে, সেভাবেই যেন তাদের মূল্যায়ন করা হয়। ভুল মূল্যায়নের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন হতাশ বা নিরুৎসাহিত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে শনিবার বেলা ১১টায় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড এবং মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।

গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে এই পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সেই তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD