নায়ক জাভেদ: বাংলাদেশের সিনেমায় নাচের নতুন অধ্যায়

বাংলাদেশি সিনেমার ইতিহাসে নায়ক জাভেদের নাম এক বিশেষ স্থান দখল করে রেখেছে। পারিবারিক নাম ইলিয়াস হলেও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে তিনি পরিচিত নায়ক জাভেদ হিসেবে। নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তিনি দেশের সিনেমায় নৃত্যচর্চার ধারায় এক বড় পরিবর্তনের সূচনা করেছিলেন।
বিজ্ঞাপন
মাত্র ১৪ বছর বয়সে ‘নয়া জিন্দেগী’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে হাতেখড়ি, যদিও ছবিটি মুক্তি পায়নি। ১৯৭০ সালের ৩০ জানুয়ারি মুক্তিপ্রাপ্ত মুস্তাফিজ পরিচালিত উর্দু সিনেমা ‘পায়েল’ তাকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি। একই সঙ্গে বাংলায় নির্মিত ‘নূপুর’ ছবিতেও তার উপস্থিতি দর্শকের মন জয় করে।
১৯৭০ থেকে ১৯৮৯ সালের মধ্যে দীর্ঘ দুই দশক ধরে তিনি ছিলেন সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক। শাবানা, ববিতা, অঞ্জু ঘোষ, রোজিনা, সুজাতা সহ দেশের প্রথম সারির নায়িকাদের বিপরীতে অভিনয় করেছেন জাভেদ।
তবে জাভেদের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল নাচের নতুন দিশা। এক সময় দেশের সিনেমায় নাচ ছিল সীমিত ও দুর্বল। সেই সীমাবদ্ধতা ভাঙতে তিনি পাড়ি জমান মুম্বাইয়ে। কিংবদন্তি নৃত্যগুরু সাধু মহারাজ ও শম্ভু মহারাজের কাছে প্রশিক্ষণ নেন। তার সহপাঠী ছিলেন প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী প্রয়াত সরোজ খান, যিনি জাভেদকে ডাকতেন ‘গুরুভাই’।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ‘আমার আপাতত বিয়ের কোনো পরিকল্পনা নেই’
বিশেষ প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি পুরো মনোযোগ দেন নৃত্য পরিচালনা ও কোরিওগ্রাফিতে। তার নির্দেশনায় সিনেমার গানগুলো হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও দর্শনীয়। ফোক ঘরানা থেকে শহুরে সিনেমা—সব জায়গাতেই নাচের নতুন ভাষা তৈরি করেন জাভেদ। কবরী, শাবানা, ববিতা, রোজিনা, অঞ্জু ঘোষসহ অসংখ্য নায়িকা তার কোরিওগ্রাফিতে দর্শক মাতিয়েছেন। বিশেষভাবে অঞ্জু ঘোষের নাচে তিনি আধ্যাত্মিক আবেশ অনুভব করতেন।
এফডিসিতে নাচের গুরু হিসেবে জাভেদের প্রতি ছিল সবার গভীর শ্রদ্ধা। তার স্ত্রী ডলি জাভেদ জানিয়েছেন, তার কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেক সফল কোরিওগ্রাফার তৈরি হয়েছেন। নৃত্য পরিচালক আমির হোসেন বাবুসহ অনেকে আজীবন তাকে গুরু হিসেবে মানতেন।
বিজ্ঞাপন
নায়ক, নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার—তিন পরিচয়েই জাভেদ ছিলেন এক সময়ের সুপারস্টার। বাংলাদেশের সিনেমায় নাচের যে জোয়ার তিনি এনেছিলেন, তা চলচ্চিত্র ইতিহাসে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।








