Logo

বাল্যবিবাহের দায়ে কঠিন শাস্তি হতে পারে লুবাবা ও তার স্বামীর

profile picture
বিনোদন প্রতিবেদক
১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭:১৮
বাল্যবিবাহের দায়ে কঠিন শাস্তি হতে পারে লুবাবা ও তার স্বামীর
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ছোট পর্দার একসময়কার পরিচিত মুখ ও আলোচিত শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা অনেক আগেই শোবিজ অঙ্গন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। এবার ব্যক্তিজীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিয়ের ইঙ্গিত দিয়ে আলোচনায় আসেন এই সাবেক শিশুশিল্পী।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন লুবাবা। বিষয়টি সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই দাবি করছেন, এটি বাল্যবিবাহের আওতায় পড়ে। কারণ, প্রচলিত আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। ফলে ১৫ বা ১৬ বছর বয়সে বিয়ে করলে তা বাল্যবিবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত লুবাবা বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেও তার বয়স নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একটি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে লুবাবা চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলেন। এমনকি ২০২৩ সালেও তিনি স্কুলের ছাত্রী ছিলেন বলে জানা যায়। এসব তথ্য ধরে হিসাব করলেও আইনি বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই তার বিয়ে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এই প্রেক্ষাপটে, যদি বিষয়টি বাল্যবিবাহ হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে কী ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন লুবাবা ও তার স্বামী—তা নিয়ে কথা বলেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজমীর সুমী। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী কন্যার বয়স ১৮ বছর এবং পাত্রের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হলে সেই বিয়ে বৈধ নয়।যদি কোনো কারণে বয়স গোপন করা হয় সেক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ আইন ও প্যানেল কোড অনুযায়ী তাদের শাস্তি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কন্যার বয়স ১৮-এর নিচে থাকলে কাজী বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন না। আর কাজীর রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো বিবাহ আইনত বৈধ না। তবে যদি কাজী যদি ১৮ বছরের নিচের কোনো কন্যার বিয়ে নিবন্ধন করেন তবে তার লাইসেন্স বাতিল হবে। এ অপরাধে অনেক কাজীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কেননা ১৯৬১ সালের আইন অনুযায়ী কন্যার বয়স ১৮ হতেই হবে। আর কোর্ট স্ট্যাম্পে যে বিয়ে হয় সেটা কোনো ভ্যালিড বিয়ে না।’

আইনজীবীর ভাষ্য, যদি কেউ বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী হয় তাহলে সে বাংলাদেশে আইন মানতে বাধ্য। দেশের বাইরে কোনো স্ট্যাম্পে সাইন করে বিয়ে করলে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী সেটি বৈধ বিয়ে না, লিভ টুগেদার বলে গণ্য হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ ‍(সংশোধিত) -এ উল্লেখ আছে ‌‘অপ্রাপ্ত বয়স্ক’ অর্থ বিবাহের ক্ষেত্রে ২১ (একুশ) বৎসর পূর্ণ করেন নাই এমন কোনো পুরুষ এবং ১৮ (আঠারো) বৎসর পূর্ণ করেন নাই এমন কোনো নারী। ‘অভিভাবক’ অর্থ Guardians and Wards Act, 1890 (Act No. VIII of 1890) এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত বা ঘোষিত অভিভাবক এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির ভরণ-পোষণ বহনকারী ব্যক্তিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে। ‘প্রাপ্ত বয়স্ক’ অর্থ বিবাহের ক্ষেত্রে ২১ (একুশ) বৎসর পূর্ণ করিয়াছেন এমন কোনো পুরুষ এবং ১৮ (আঠারো) বৎসর পূর্ণ করিয়াছেন এমন কোনো নারী। ‘বাল্যবিবাহ’ অর্থ এইরূপ বিবাহ যাহার কোনো এক পক্ষ বা উভয় পক্ষ অপ্রাপ্ত বয়স্ক।

সেখানে বাল্যবিবাহের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের শাস্তি সম্পর্কে আইনে বলা আছে-

(১) আদালত, স্ব-উদ্যোগে বা কোন ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে বা অন্য কোন মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, যদি এই মর্মে নিশ্চিত হন যে, কোন বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে অথবা বাল্যবিবাহ অত্যাসন্ন তাহা হইলে আদালত উক্ত বিবাহের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করিতে পারিবে।

বিজ্ঞাপন

(২) আদালত স্বেচ্ছায় বা অভিযোগকারী ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ প্রত্যাহার করিতে পারিবে।

(১) এর অধীন আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করিলে তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক ১ (এক) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

বিজ্ঞাপন

বাল্যবিবাহ নিয়ে মিথ্যা অভিযোগের শাস্তি নিয়ে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ধারা ৫ এর অধীন মিথ্যা অভিযোগ করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৩০ (ত্রিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক ১ (এক) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

আর বাল্যবিবাহের শাস্তি হিসেবে বলা আছে প্রাপ্ত বয়স্ক কোনো নারী বা পুরুষ বাল্যবিবাহ করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন। অর্থাৎ লুবাবার স্বামী প্রাপ্ত বয়স্ক হলে তার দুই বছরের জেল ও ১ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। জরিমানা না দিতে পারলে আরও তিন মাস বেশি কারাবাস হবে।

অপ্রাপ্ত বয়স্ক কোনো নারী বা পুরুষ বাল্যবিবাহ করিলে তিনি অনধিক ১ (এক) মাসের আটকাদেশ বা অনধিক ৫০,০০০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় ধরনের শাস্তিযোগ্য হইবেন। তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৮ এর অধীন কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের বা দণ্ড প্রদান করা হইলে উক্তরূপ অপ্রাপ্ত বয়স্ক নারী বা পুরুষকে শাস্তি প্রদান করা যাইবে না।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে লুবাবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ মাসের আটক এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার সম্ভাবনা রয়েছে, আর তার স্বামীর ক্ষেত্রে শাস্তির মাত্রা আরও বেশি হতে পারে—যদি তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকেন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD