নাট্যধারার ‘দোযখের শেষ মেয়েটি’: লিভিং থিয়েটারের ভাষায় এক দুঃসাহসী নাট্যপ্রয়াস

প্রচলিত কাহিনীনির্ভর ও সংলাপপ্রধান বাংলা মঞ্চনাটকের গণ্ডি ভেঙে লিভিং থিয়েটারের ধারায় নির্মিত একটি পরীক্ষামূলক প্রযোজনা নিয়ে আসছে নাট্যধারা। নাটকের নাম ‘দোযখের শেষ মেয়েটি’।
বিজ্ঞাপন
আগামী ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল হলে নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে।
লিভিং থিয়েটারের মূল দর্শন হলো— নাটক শুধু দেখার বিষয় নয়, বরং অনুভব করার বিষয়। এতে দর্শক ও অভিনেতার মধ্যে প্রচলিত দূরত্ব ভেঙে যায়। নাট্যঘটনা হয়ে ওঠে একটি জীবন্ত, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা। নাট্যধারার এই প্রযোজনায়ও সেই দর্শনের প্রতিফলন ঘটেছে।
প্রচলিত নাট্যরীতির মতো সরল গল্প বলা বা চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের চেয়ে এখানে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে শরীরী ভাষা, প্রতীকী চলন, আলো-আঁধারির নাটকীয় ব্যবহার এবং সামগ্রিক আবহ নির্মাণ। নাটকটি দর্শককে একটি নির্দিষ্ট গল্পের মধ্যে আটকে না রেখে ভয়, আতঙ্ক, নীরবতা ও সহিংসতার অনুভূতির মধ্যে নিক্ষেপ করে। এতে দর্শককে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হয় এবং প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়।
বিজ্ঞাপন
নাটকের গল্পের মূলে রয়েছে ইরাকের ইয়াজিদি নারী নাদিয়া মুরাদের বাস্তব জীবন। মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের হাতে যৌনদাসীতে পরিণত হওয়া, নরকসম অভিজ্ঞতা থেকে পালিয়ে আসা এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ— নাদিয়ার এই যাত্রাই নাটকের কেন্দ্রবিন্দু। তবে নাট্যকার আনিসুর রহমান শুধু নাদিয়ার ব্যক্তিগত গল্পেই আটকে থাকেননি। এতে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, বেনিয়াবৃত্তি এবং মানবিক সংকটের নানা স্তর।
নাটকটি শেষ হয় কয়েকটি তীক্ষ্ণ প্রশ্ন দিয়ে—
১. নাদিয়াই কি পৃথিবীর দৃশ্য-অদৃশ্য দোযখের শেষ মেয়ে?
বিজ্ঞাপন
২. সিরিয়ার যুদ্ধই কি পৃথিবীর শেষ যুদ্ধ?
৩. মৌলবাদ সৃষ্ট দোযখই কি পৃথিবীর শেষ দোযখ?
৪. নাদিয়াই কি শেষ দোযখের শেষ মেয়েটি?
বিজ্ঞাপন
৫. যুদ্ধশিশু কি পরিকল্পিত?
নাট্যনির্মাণ ও সঙ্গীত পরিকল্পনায় রয়েছেন আশীষ খন্দকার। সহযোগী নির্দেশক রিয়াদ মাহমুদ। মঞ্চ ও আলো পরিকল্পনা করেছেন পলাশ সেন হেনরী।
অভিনয়ে অংশ নিয়েছেন— মো. কামাল হোসেন, ফাহমিদা রহমান তৃষা, রিয়াদ মাহমুদ, হাফসা আক্তার, মো. আব্দুল আজিজ, রহিম পারভেজ, সোহেল আমীর, মো. রফিকুল ইসলাম, আল হাছিবুর রহমান, জাহাঙ্গীর সিকদার, ইমতিয়াজ আহমেদ দুলু, আমজাত হোসাইন ও নুরুন নাহার মৌ।
বিজ্ঞাপন
নাট্যধারার এই প্রযোজনা শুধু একটি নতুন নাটক নয়, বরং সমকালীন বাংলা নাট্যচর্চায় একটি সাহসী পদক্ষেপ। লিভিং থিয়েটারের আদলে নির্মিত এই প্রযোজনা দর্শককে আরামদায়ক অভিজ্ঞতার পরিবর্তে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং সমাজ-রাজনীতির নানা স্তরে নিয়ে যায়।
যারা নাটককে শুধু বিনোদন নয়, বরং চিন্তার খোরাক হিসেবে দেখেন, তাদের জন্য ‘দোযখের শেষ মেয়েটি’ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযোজনা হয়ে উঠতে পারে।








