‘সতলুজ’ সরানোর পর জসবন্ত সিং খালরার শেষ ভাষণ ভাইরাল

মানবাধিকারকর্মী জসবন্ত সিং খালরার জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘সতলুজ’ ভারতের স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর তার শেষ জনসম্মুখে দেওয়া ভাষণের একটি পুরোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। চলচ্চিত্রটি মুক্তির অল্প সময়ের মধ্যেই সরিয়ে নেওয়ায় দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে এবং সেই সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে খালরার সংগ্রাম ও বক্তব্য।
বিজ্ঞাপন
পরিচালক হানি ত্রেহানের নির্মাণে এবং জনপ্রিয় অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত ‘সতলুজ’ গত ৩ জুলাই মুক্তি পায়। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সেন্সর সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে থাকার পর অবশেষে এটি মুক্তি পেলেও দুই দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ভারতের স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম জি৫ (ZEE5) থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
চলচ্চিত্রটি মূলত মানবাধিকারকর্মী জসবন্ত সিং খালরার জীবন ও কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নির্মিত। তিনি পাঞ্জাবে সশস্ত্র সংঘাতের সময় কথিত বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং নিখোঁজ হওয়ার নানা ঘটনার তথ্য প্রকাশ করে আলোচনায় আসেন। ১৯৯৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি নিখোঁজ হন এবং পরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
চলচ্চিত্রটি সরিয়ে নেওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে খালরার শেষ জনসম্মুখে দেওয়া ভাষণের অডিও ও ভিডিও। ১৯৯৫ সালের এপ্রিল মাসে কানাডা সফরের সময় তিনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেখানে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে তিনি অন্ধকারের বিরুদ্ধে একটি ছোট প্রদীপের লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
তার বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চান। যদি অন্য কিছু সম্ভব না-ও হয়, অন্তত তিনি নিজের চারপাশে সেই অন্ধকারকে স্থায়ী হতে দেবেন না। একই সঙ্গে তিনি মানুষকে অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
চলচ্চিত্র ‘সতলুজ’-এও এই বিখ্যাত বক্তব্য পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত চরিত্রের মাধ্যমে অন্ধকারের বিরুদ্ধে একটি প্রদীপের প্রতীকী সংগ্রামের বিষয়টি তুলে ধরা হয়, যা দর্শকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলেছে।
উল্লেখ্য, ছবিটির প্রাথমিক নাম ছিল ‘পাঞ্জাব ৯৫’। ভারতের সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র না পাওয়ায় প্রায় চার বছর ধরে এটি মুক্তির অপেক্ষায় ছিল। পরে নতুন নামে মুক্তি পেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
চলচ্চিত্রটি সরানোর কারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে এর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জসবন্ত সিং খালরার জীবন, তার মানবাধিকার আন্দোলন এবং শেষ ভাষণের বার্তা নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, চলচ্চিত্রটি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে খালরার সংগ্রাম ও আদর্শ আবারও আলোচনায় এসেছে।








