দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন

দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। এক বছরেরও বেশি সময় বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে সোমবার (৩ আগস্ট) তিনি বাংলাদেশে পৌঁছান। দেশে ফিরেই নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে আশ্বস্ত করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এই বরেণ্য অভিনেতা।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, সোমবার সকালে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন ইলিয়াস কাঞ্চন। দেশে ফেরার সময় তার সঙ্গে ছিলেন মেয়ের জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্স। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে হুইলচেয়ারে দেখা যায়।
যদিও তাকে কিছুটা ক্লান্ত ও শারীরিকভাবে দুর্বল মনে হচ্ছিল, তবুও উপস্থিত ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্বজনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমি ভালো আছি। শরীরও ভালো আছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমিও সবার জন্য দোয়া করি।”
অভিনেতার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের এপ্রিলে মস্তিষ্কে টিউমারের চিকিৎসার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যান। একই বছরের আগস্ট মাসে লন্ডনের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তার জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের সময় ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে টিউমারের সম্পূর্ণ অংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত চিকিৎসা, পর্যবেক্ষণ এবং কেমোথেরাপির মধ্যে ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট লিটন এরশাদ জানিয়েছেন, ইলিয়াস কাঞ্চনকে আবারও অল্প সময়ের মধ্যেই যুক্তরাজ্যে ফিরে যেতে হবে। আগামী ১৫ আগস্ট তার পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষা নির্ধারিত থাকায় ১৪ আগস্টের আগেই লন্ডনে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত এক বছরে অভিনেতাকে প্রায় ৬০টি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে। যদিও দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা চলেছে, তারপরও প্রত্যাশিত মাত্রায় শারীরিক উন্নতি হয়নি। সে কারণে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান এখনো অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে ইলিয়াস কাঞ্চন অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল অভিনেতা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি অসংখ্য দর্শকনন্দিত ও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’সহ বহু সিনেমা আজও দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয়।
বিজ্ঞাপন
অভিনয়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রীকে হারানোর পর নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে দীর্ঘদিন সক্রিয় ভূমিকা রাখায় তিনি একুশে পদকেও ভূষিত হন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডেও তার অবদান ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।
দেশে ফেরার পর তার সুস্থতা কামনায় ভক্ত, সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভকামনা জানাচ্ছেন। সবাই আশা করছেন, চিকিৎসা শেষে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।








