Logo

‘আমি আর পারছি না’, লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন জ্যোতি

profile picture
বিনোদন প্রতিবেদক
৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:২২
‘আমি আর পারছি না’, লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন জ্যোতি
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয়ের বাইরে রয়েছেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। অভিনয়ের পাশাপাশি তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ শিল্পীদের একজন হিসেবে পরিচিত এই অভিনেত্রী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আলোচিত ‘আলো আসবেই’ নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এবার হঠাৎই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি সম্প্রচারে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন জ্যোতিকা। লাইভে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ, কাজের সংকট এবং অনলাইন হয়রানির কারণে তিনি ভীষণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি আর পারছি না।’ এমনকি একপর্যায়ে বলেন, ‘এই বাংলাদেশে জন্ম নিয়েই ভুল করেছি।’

সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় প্রচারিত ওই লাইভে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জ্যোতিকা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ, অনলাইন হয়রানি ও কাজের সংকটে ভীষণভাবে বিপর্যস্ত তিনি। আর একপর্যায়ে এ অভিনেত্রী বলেন, আমি আর পারছি না।

জ্যোতিকা শুরুতেই বলেন, নিজের কষ্ট ভাগ করে নেয়ার মতো কেউ নেই। তিনি বলেন, কোনো দুর্ঘটনার পর অনেক কথা বলি আমরা। কিন্তু যে মানুষটি এমন অবস্থার মধ্যে থাকে, তার কষ্ট শুধু তিনি নিজেই জানেন। আমি নিজেকে সবসময় শক্ত রাখার জন্য চেষ্টা করেছি। যা এখন আর পারছি না।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তার দাবি―গত দুই বছর ধরে তেমন কোনো কাজ নেই তার। কিন্তু এই সময় নিয়মিত অনলাইন হয়রানি, কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছেন। আর্থিক সংকটের কথাও জানান। বলেন, অনেক সময় মা-বাবার কাছ থেকে সাহায্য নিতে হচ্ছে, যা তাকে অধিকতর মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে।

এ সময় জ্যোতিকা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের পর থেকে তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও হয়রানি বেড়ে যায়। তার ভাষ্যমতে, তার রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের কারণে একাধিক পক্ষের সমালোচনা, হুমকি এবং অনলাইন বুলিংয়ের মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণ দীর্ঘ সময় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেননি। নানা সময় তাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে। যা তার জন্য খুবই কষ্টের। আর এসব ঘটনার প্রভাব তার পেশাগত জীবনে পড়ছে বলেও জানিয়েছেন জ্যোতিকা।

এ অভিনেত্রীর দাবি, তাকে নিয়ে কাজ করতে এখন অনেকেই ভয় পান। এ কারণে তার পেশাগত জীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, আমি কারও কাছে গিয়ে কাজ চাইতে পারি না। আবার আপস করেও কাজ করতে পারি না। আমার জীবন একদম নরকের মতো হয়ে গেছে।

এছাড়া লাইভের শেষ দিকে জ্যোতিকা বলেন, আমি হেল্পলেস। আমি দুঃখিত, এভাবে আমার দুর্বলতা প্রকাশ করতে হলো। কিন্তু আমার আর শক্তি নেই। মনে হচ্ছে, আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিকে কেন্দ্র করেও আলোচনায় এসেছিলেন জ্যোতিকা জ্যোতি। সে সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, তাকে অফিসকক্ষে আটকে রাখা হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD