মেয়ের পাসপোর্ট বুকে চেপে কাবা প্রাঙ্গণে কায়সার হামিদ

মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে পবিত্র কাবা শরিফে ওমরাহ পালনের ইচ্ছা ছিল জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদের। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণের আগেই না ফেরার দেশে চলে যান তার মেয়ে, জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। মেয়েকে হারানোর শোক এখনো বয়ে বেড়ানো বাবা এবার কারিনার পাসপোর্ট সঙ্গে নিয়েই পবিত্র ওমরাহ পালন করতে মক্কায় গেছেন।
বিজ্ঞাপন
কারিনা পাশে নেই, তবে তার স্মৃতি ও পাসপোর্টটি এখনো বাবার কাছে রয়েছে। মেয়ের সঙ্গে ওমরাহ পালনের যে স্বপ্ন ছিল, তা অপূর্ণ থাকলেও কারিনার স্মৃতিচিহ্ন সঙ্গে নিয়ে সেই পবিত্র যাত্রায় অংশ নিয়েছেন কায়সার হামিদ।
গত বছর থেকেই মেয়েকে নিয়ে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা করছিলেন কায়সার হামিদ। তবে স্বপ্ন পূরণের আগেই হঠাৎ থেমে যায় কারিনার জীবন। লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক মাস আগে মারা যান তিনি।
মেয়ের সেই অপূর্ণ ইচ্ছাকে হৃদয়ে ধারণ করেই এবার কাবা শরিফে গিয়েছেন কায়সার হামিদ। মক্কা থেকে সামাজিক মাধ্যমে কারিনার পাসপোর্ট হাতে এক আবেগঘন ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘কারিনা কায়সারকে নিয়ে আল্লাহর ঘরে আসার প্ল্যান গত বছর থেকেই করা হয়েছিল... কিন্তু সে হঠাৎ করে সবার আগেই আল্লাহর কাছে চলে গেছে।’
বিজ্ঞাপন
মেয়ের উপস্থিতি না থাকলেও বাবা বিশ্বাস করেন, আত্মিকভাবে কারিনা তার পাশেই ছিল। আবেগপ্লুত কায়সার হামিদ লেখেন, ‘স্বপ্নে দেখেছিলাম কারিনা আমার সাথে পবিত্র কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ করছে। তাই আমার বিশ্বাস কারিনা আমাদের সাথেই ওমরা করেছে। তার পাসপোর্টটি সর্বক্ষণ আমাদের সাথেই ছিল।’
প্রসঙ্গত, কারিনা কায়সার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা এবং জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই তরুণদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছিলেন। পরে অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি। ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছিলেন এই তরুণ প্রতিভা।








