Logo

অনাহারেই মারা যায় সুনামগঞ্জের ১০ জন, লাশ ফেলে দেওয়া হয় সাগরে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ মার্চ, ২০২৬, ১৩:৫৫
অনাহারেই মারা যায় সুনামগঞ্জের ১০ জন, লাশ ফেলে দেওয়া হয় সাগরে
ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। তীব্র খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। নিহতদের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে, যাদের সবাই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।

বিজ্ঞাপন

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের গ্রিসের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। সেখানে অবস্থানরত হবিগঞ্জের এক যুবক জানান, গত ৬ মার্চ তিনি একইভাবে গ্রিসে পৌঁছেছিলেন এবং বর্তমানে যে ক্যাম্পে আছেন, সেখানেই ২৭ মার্চ সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে।

উদ্ধারপ্রাপ্তদের বরাতে জানা যায়, দালালের মাধ্যমে তারা রাবারের একটি ছোট নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু মাঝপথে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং টানা ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে। এ সময় খাবার ও পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। একপর্যায়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুবরণ করেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, মৃতদের মরদেহ সাগরেই ফেলে দিতে বাধ্য হন অন্য যাত্রীরা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), সাহান এহিয়া (২৫) ও মুজিবুর রহমান (৩৮) রয়েছেন। এছাড়া দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের আবু ফাহিম এবং জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়ক আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, এসব অভিবাসনপ্রত্যাশীরা দালালের সঙ্গে প্রায় ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে গত মাসে দেশ ছেড়েছিলেন। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর চুক্তির অর্ধেক অর্থ পরিশোধ করা হয়। এরপর কয়েকদিন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর রোববার গ্রিসে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর পৌঁছায়।

বিজ্ঞাপন

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের ক্যাম্পেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, বিভিন্ন সূত্রে ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।

এই ঘটনা আবারও অবৈধ পথে বিদেশযাত্রার ঝুঁকি ও মানবপাচার চক্রের নির্মম বাস্তবতা সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD