Logo

হাসপাতালে ব্রয়লার খামার, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগী ও স্থানীয়রা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া
১১ মে, ২০২৬, ১৫:৪৪
হাসপাতালে ব্রয়লার খামার, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগী ও স্থানীয়রা
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালের আবাসিক কোয়ার্টারের ছাদে গড়ে তোলা হয়েছে বাণিজ্যিক মুরগির খামার। এতে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন এবং আশপাশের পথচারীরা। বিশেষ করে প্রসূতি বিভাগ, গাইনি ও বহির্বিভাগে আসা মানুষজনকে নাকে রুমাল চেপে চলাচল করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের আয়া পলি খাতুন আবাসিক ভবনের ছাদে কয়েকশ ব্রয়লার মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন। খামার থেকে নির্গত মুরগির বিষ্ঠার দুর্গন্ধ বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কেবিনে। এতে রোগীদের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের মূল ভবনের অল্প দূরত্বে অবস্থিত আবাসিক কোয়ার্টারের ছাদজুড়ে তৈরি করা হয়েছে মুরগির খামার। পাশেই রয়েছে গাইনি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার এবং প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসা কক্ষ। সামান্য বাতাস বইলেই খামার থেকে আসা দুর্গন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালে সন্তানকে চিকিৎসা করাতে আসা আফসানা আক্তার বলেন, ছেলেকে পানি খাওয়ানোর জন্য কোয়ার্টারের পাশের টিউবওয়েলে গিয়েছিলাম। সেখানে দাঁড়ানোই কঠিন হয়ে পড়ে। হাসপাতালের ভেতরে এমন পরিবেশ কল্পনাও করা যায় না।

একই অভিযোগ করেন পথচারী আব্দুস ছাত্তার। তিনি বলেন, আগে থেকেই শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে। এখন এই রাস্তা দিয়ে হাঁটলেই দম বন্ধ হয়ে আসে। যেখানে মানুষ সুস্থ হতে আসে, সেখানে এমন দুর্গন্ধ সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।

অভিযোগের বিষয়ে খামারের মালিক ও হাসপাতালের আয়া পলি খাতুন জানান, প্রায় এক মাস আগে খামারটি চালু করেছেন তিনি। সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে কিছুটা গন্ধ ছড়িয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, সাধারণ সময়ে এত সমস্যা হয় না।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, খামারে তিন শতাধিক ব্রয়লার মুরগি রয়েছে এবং সেগুলোর বয়স বর্তমানে ২১ দিনের মতো। খুব দ্রুতই মুরগিগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ বিষয়ে অবগত কি না জানতে চাইলে পলি খাতুন বলেন, তিনি খামার চালুর আগে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, হাসপাতাল কোয়ার্টারে মুরগির খামার পরিচালনার বিষয়টি তার জানা ছিল না। আগে ওই ভবনটি মাদকাসক্তদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছিল। এজন্য পূর্ববর্তী কর্মকর্তা পলি খাতুনকে সেখানে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন।

খামারের বিষয়ে অবগত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসানও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD