Logo

স্বাস্থ্যখাতে বাড়ছে বরাদ্দ, জিডিপির ১ শতাংশ দেওয়ার ঘোষণা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ মে, ২০২৬, ১৭:৫০
স্বাস্থ্যখাতে বাড়ছে বরাদ্দ, জিডিপির ১ শতাংশ দেওয়ার ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর বড় ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আসন্ন জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। গত অর্থবছরে এ খাতে জিডিপির ০ দশমিক ৬৭ শতাংশ বরাদ্দ ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেওয়ার পর নতুন বাজেটে তা বাড়িয়ে ১ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে সরকার নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও সমন্বিত কাঠামোয় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

নতুন স্বাস্থ্যব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসে অন্তত একবার স্বাস্থ্যকর্মীদের সেবা পাবে বলে জানান তিনি। এসব স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।

বিজ্ঞাপন

এই সেবার মধ্যে থাকবে— ব্লাড সুগার ও রক্তচাপ পরীক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, গর্ভবতী নারীদের কাউন্সেলিং, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের শারীরিক বিকাশ পর্যবেক্ষণ এবং টিকাদান কার্যক্রম তদারকি।

এ ছাড়া প্রতিটি নাগরিককে ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী তাকে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটে পাঠানো হবে। প্রয়োজনে উপজেলা বা বিশেষায়িত হাসপাতালে রেফার করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী। তিনি বলেন, ২০২০ সালের পর হামবিরোধী ক্যাম্পেইন না হওয়া এবং অতীতের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে টিকাদান কভারেজের তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন না করায় বহু শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রথম ধাপে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। পরে দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে কার্যক্রম চালানো হয়। এরপর ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।

তিনি জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে ইতোমধ্যে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ।

অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হাম-রুবেলা টিকা নেওয়ার পর শরীরে রোগ প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত তিন সপ্তাহ সময় লাগে। ফলে খুব শিগগিরই দেশে হামের সংক্রমণ কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেসব শিশু এখনো টিকা পায়নি, এমনকি নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় টিকা নেওয়া শিশুরাও যেন এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ করে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD