Logo

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে টেকসই অর্থায়নের দাবি বিশেষজ্ঞদের

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ মে, ২০২৬, ১৮:৪৮
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে টেকসই অর্থায়নের দাবি বিশেষজ্ঞদের
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ বর্তমানে অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে-২০২৫’ অনুযায়ী, দেশের শীর্ষ ১০টি রোগের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ও টেকসই অর্থায়নের অভাবে সবার জন্য বিনা মূল্যে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সরবরাহের সরকারি উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর বিএমএ ভবনে ‘উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রতি বছর ১৭ মে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘কন্ট্রোলিং হাইপারটেনশন টুগেদার’।

বিজ্ঞাপন

সভায় জানানো হয়, দেশে বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ ঘটে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে। এর অন্যতম প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে হৃদরোগজনিত অসুস্থতায় মারা গেছেন প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষ। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপ।

আলোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়, তৃণমূল পর্যায়ে বিনা মূল্যে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সরবরাহ কার্যক্রম চালু হলেও পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

সভায় স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. এনামুল হক বলেন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে শুধু বাজেট বাড়ালেই হবে না, বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. খোরশেদ আলম বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকার কাজ করছে। এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে ইতিবাচক ফল দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে সবার জন্য বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগ ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক ডা. মলয় কান্তি মৃধা বলেন, গবেষণাভিত্তিক প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, উচ্চ রক্তচাপ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি এবং নীতিনির্ধারকদের কার্যকর ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে টেকসই অর্থায়নকে কার্যকর বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া সভায় আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. গীতা রানী দেবী, বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রজ্ঞার প্রোগ্রাম কর্মকর্তা সামিহা বিনতে কামাল। সভায় সভাপতিত্ব করেন জিএইচএআই বাংলাদেশের কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD