Logo

রামগতি হাসপাতালে চরম শয্যা সংকট, মেঝে-বারান্দায় চলছে চিকিৎসা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
রামগতি, লক্ষ্মীপুর
১০ জুন, ২০২৬, ১৪:২৯
রামগতি হাসপাতালে চরম শয্যা সংকট, মেঝে-বারান্দায় চলছে চিকিৎসা
ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীবেষ্টিত উপকূলীয় উপজেলা রামগতির প্রায় ৩ লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে তীব্র শয্যা সংকট ও অব্যবস্থাপনায় বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বড় একটি অংশকে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সীমিত সংখ্যক শয্যার এই প্রতিষ্ঠানে বর্ষা মৌসুমে ডায়রিয়া, ডেঙ্গুসহ নানা রোগীর চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ থেকে ৪ গুণ বেড়ে যায়। ফলে গুরুতর রোগীরাও অনেক সময় শয্যা না পেয়ে খোলা বারান্দা বা অপরিচ্ছন্ন মেঝেতে অবস্থান করতে বাধ্য হন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শয্যা সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালটিতে চিকিৎসক ও নার্সেরও ঘাটতি রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় সকালের শিফটের পর জরুরি বিভাগে চিকিৎসক পাওয়া যায় না। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সিরিঞ্জ, টেপসহ নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ওষুধের ঘাটতির কারণে রোগীদের বাইরে থেকে উচ্চ দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ

হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও রয়েছে ব্যাপক অসন্তোষ। ওয়ার্ড, ওয়াশরুম ও করিডোর নিয়মিত পরিষ্কার না থাকায় দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এতে রোগীরা আরোগ্য লাভের বদলে নতুন করে সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় রোগীদের নিজ উদ্যোগে শয্যা পরিষ্কার করতে দেখা যায়।

১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা

বিজ্ঞাপন

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশব্যাপী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ৩ জুন একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ পরিদর্শক দল শিগগিরই রামগতি হাসপাতাল পরিদর্শন করে অবকাঠামো, জায়গার প্রাপ্যতা এবং অতিরিক্ত শয্যা স্থাপনের সক্ষমতা যাচাই করবে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রামগতিতে মাতৃত্বকালীন সেবা, জরুরি সার্জারি এবং আধুনিক ল্যাব পরীক্ষার সুবিধা স্থানীয় পর্যায়েই পাওয়া যাবে। এতে জেলা সদরে রোগী স্থানান্তরের চাপও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, সীমিত জনবল ও অবকাঠামো নিয়ে ৩ লাখ মানুষের সেবা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে হাসপাতালের সক্ষমতা ও সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে তারা আশাবাদী। একই সঙ্গে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD