মৌলভীবাজারে হামের উপসর্গে ৯ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৮

মৌলভীবাজারে গত দুই মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে নমুনা পরীক্ষায় ১৮ জনের শরীরে হাম ও রুবেলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় ইতোমধ্যে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির ৯৯ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ৯ জুন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হামের লক্ষণযুক্ত প্রায় ৫০০ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে ১৬ জনের হাম এবং ২ জনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে।
একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃত শিশুদের মধ্যে দুইজন সিলেটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেও তাদের স্থায়ী ঠিকানা মৌলভীবাজারে।
বিজ্ঞাপন
জেলায় হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ২ লাখ ৪ হাজার ৯২৮ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৯৯ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।
এছাড়া সম্ভাব্য রোগীদের চিকিৎসা ও পৃথক ব্যবস্থাপনার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ২০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, জেলার প্রায় সব লক্ষ্যভুক্ত শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে টিকা কার্যকর হতে সাধারণত এক মাস সময় লাগে। তাই টিকাদান সম্পন্ন হলেও কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, হাম, রুবেলা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে যাদের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তাদের মাস্ক ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং রোগের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।








