Logo

দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন স্কুলের শিক্ষার্থীরা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
কাপাসিয়া, গাজীপুর
৯ জুন, ২০২৬, ১৫:০২
দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন স্কুলের শিক্ষার্থীরা
ছবি: প্রতিনিধি

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা ময়লার ভাগাড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শ্রেণিকক্ষের জানালার একেবারে পাশে জমে থাকা বর্জ্যের দুর্গন্ধে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৯ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, কাপাসিয়া–শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশ ঘেঁষে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের অন্তত ১৩টি শ্রেণিকক্ষের জানালার কাছে জমে আছে ময়লার স্তূপ। স্থানীয় বাজারের পচা শাকসবজি, হোটেলের বাসি খাবার, মুরগির বর্জ্যসহ গৃহস্থালির নানা আবর্জনা সেখানে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের পাশেই শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ থাকায় দুর্গন্ধে শুধু পাঠদান নয়, খেলাধুলা ও স্বাভাবিক চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গরমের মধ্যে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বহুগুণ বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আজমল ইসলাম বলেন, রাতের অন্ধকারে এখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। কারা ফেলছে তা শনাক্ত করা যায়নি। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে।

একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে দীর্ঘ সময় বসে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অনেক সময় বমি বমি ভাব তৈরি হয় এবং পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়।

অভিভাবক নজরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে এমনভাবে ময়লা ফেলা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় পথচারী মামুন মিয়া বলেন, এই সড়ক দিয়ে চলাচল করাও কষ্টকর হয়ে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এমন ময়লার ভাগাড় কীভাবে তৈরি হলো, তা বোধগম্য নয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করেই স্কুলের পাশে ময়লার ভাগাড় তৈরি হয়েছে। রাতে কে বা কারা ময়লা ফেলছে তা জানা যায়নি। দুর্গন্ধে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল আরিফ সরকার বলেন, এ বিষয়ে এখনো আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনীম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ময়লা অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯৮০ সালে নিবন্ধন লাভ করে। বর্তমানে এখানে শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD