‘সিডিএ ছাড়াই কীভাবে হাসপাতালের অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর?’

চট্টগ্রাম নগরের আবাসিক এলাকায় অনুমোদিত নকশা না মেনে পরিচালিত বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে নগরের ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল, ল্যানসেট হাসপাতাল, শেভরন বেলভিউ ও একুশে হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। সিডিএ চেয়ারম্যান নিজেই অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এ সময় সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল আজম এবং স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) হামীমুন তানজীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে শেভরন হাসপাতালের ভবনে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ধরা পড়ে। নকশা অনুযায়ী ভবনটির গ্রাউন্ড ও ফার্স্ট ফ্লোরে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা রাখার কথা থাকলেও সেখানে অন্যান্য স্থাপনা ও অভ্যর্থনা কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ অনিয়মের কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য তিন মাসের সময় বেঁধে দিয়েছে সিডিএ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব স্থাপনা অপসারণ না করলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালানোর সময় মালিকপক্ষের কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুমোদিত নকশাসহ সিডিএ কার্যালয়ে হাজির হয়ে ভবনটির বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
অভিযানে নকশাবহির্ভূত ও অনুমোদনহীনভাবে চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়টি সামনে আসায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিডিএ চেয়ারম্যান।
ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, নকশা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর এসব বাণিজ্যিক চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। সিডিএর অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা ডিজি অফিস কীভাবে এসব হাসপাতালের অনুমোদন বা লাইসেন্স দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সিডিএ জানিয়েছে, অভিযানে চিহ্নিত নকশাগত ত্রুটি ও অনুমোদনসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময় দেওয়া হয়েছে। নকশার ত্রুটি সংশোধন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার জন্য এক মাসের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান নকশা ও অনুমোদনসংক্রান্ত অনিয়ম দূর করতে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সিডিএ। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান সিলগালা করার পাশাপাশি আইন অনুযায়ী অন্যান্য পদক্ষেপও নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
সিডিএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ স্থাপনা ও অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত হাসপাতাল-ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।








