Logo

জরাজীর্ণ ভবনে চিকিৎসা, ধামরাইয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই ওষুধ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
ধামরাই, ঢাকা
২২ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:৪৫
জরাজীর্ণ ভবনে চিকিৎসা, ধামরাইয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই ওষুধ
ছবি: প্রতিনিধি

ঢাকার ধামরাই উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওষুধ সরবরাহ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। চিকিৎসকের পরামর্শ মিললেও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে রোগীদের খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। একই সঙ্গে জরাজীর্ণ ভবন, চিকিৎসক ও জনবল সংকটে কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অনেকটাই ভেঙে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত সরকারি ওষুধ সরবরাহ হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে সামান্য পরিমাণ ওষুধ এলেও তা রোগীদের চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে নিম্নআয়ের মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে এসেও বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

এতে শিশুদের সাধারণ রোগের চিকিৎসা, প্রসূতি সেবা, নরমাল ডেলিভারি, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের রোগীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

ধামরাইয়ের নয়টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মধ্যে চৌহাট, সানোড়া ও কুল্লা কেন্দ্রের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক বলে জানা গেছে। এসব কেন্দ্রের ভবনের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

কোথাও ছাদের অংশ ভেঙে পড়েছে, কোথাও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। বৃষ্টি হলে কোনো কোনো কক্ষে পানি ঢুকে পড়ছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেই রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের কাজ এগোলেও এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ফলে পুরোনো ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

এ ছাড়া বেলিশ্বর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রসহ নান্নার ও কুশুরা ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর অবস্থাও সংস্কারের অভাবে ভালো নয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় মেরামত না হওয়ায় এসব কেন্দ্রেও রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

ওষুধের পাশাপাশি এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছে তীব্র জনবল সংকট। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাঠামো অনুযায়ী নয়টি কেন্দ্রে মোট ১৫৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১২৭ জন।

সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে। নয়টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য যেখানে নয়জনের প্রয়োজন, সেখানে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র চারজন। ফলে একাধিক কেন্দ্রের চিকিৎসাসেবা সীমিত জনবল দিয়ে পরিচালনা করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন ধামরাই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাও। তার মতে, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রহিমা বেগম বলেন, তিনি তার সন্তানদের ঠান্ডা ও জ্বরের চিকিৎসা করাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছিলেন। চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন পেলেও কোনো সরকারি ওষুধ পাননি।

তিনি বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধ পাওয়ার আশাতেই তারা আসেন। কিন্তু বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে গেলে সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

আসাদ নামে আরেক রোগী অভিযোগ করেন, শুধু ওষুধের সংকট নয়, চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়েও সমস্যা রয়েছে। তার দাবি, অনেক সময় চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ে আসেন না এবং কেউ কেউ সময়ের আগেই চলে যান। প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিত সরকারি ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ধামরাই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ রাসেল বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ওষুধের সংকটের পাশাপাশি জনবল সমস্যাও রয়েছে। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত বরাদ্দসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার, নতুন ভবনের বরাদ্দ এবং পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করতে হবে। তা না হলে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা আরও সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD