Logo

রুহিয়ায় মিশ্র ফল চাষে সাফল্যের নজির আশিক মল্লিকের

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও সদর, ঠাকুরগাঁও
২২ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:১২
রুহিয়ায় মিশ্র ফল চাষে সাফল্যের নজির আশিক মল্লিকের
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার ঢোলারহাট ইউনিয়নের আরাজি দক্ষিণ বঠিনা গ্রামে মাত্র ৫০ শতাংশ জমিতে মিশ্র ফলের বাগান গড়ে সাফল্যের মুখ দেখেছেন তরুণ উদ্যোক্তা আশিক মল্লিক। নানা জাতের ফলের সমন্বয়ে গড়ে তোলা তার বাগানটি এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছে হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ।

বিজ্ঞাপন

প্রায় চার বছর আগে শখ ও ভিন্নধর্মী কিছু করার আগ্রহ থেকে ফলের বাগান করার উদ্যোগ নেন আশিক মল্লিক। ধীরে ধীরে পরিশ্রম, পরিচর্যা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি গড়ে তোলেন মিশ্র ফলের বাগান। বাগান তৈরিতে এ পর্যন্ত তার প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে ৫০ শতাংশ জমির এই বাগানে রয়েছে মোট ২১০টি ফলের গাছ। এর মধ্যে ৫০টি কমলা ও ৬০টি পেয়ারা গাছ রয়েছে। তবে বাগানের অন্যতম আকর্ষণ ড্রাগন ফল। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের ফলের গাছ থাকায় পুরো বাগানটি পেয়েছে বৈচিত্র্যময় রূপ।

উদ্যোক্তা আশিক মল্লিক জানান, গত বছর থেকে তার বাগানে ফলন আসতে শুরু করে। প্রথম দিকে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও ধীরে ধীরে তিনি বিক্রির সুযোগ তৈরি করেন। গত এক বছরে তিন দফায় ড্রাগন ফল বিক্রি করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ড্রাগন ফল বিক্রি করে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় করেছেন। পাশাপাশি পেয়ারা ও কমলা বিক্রি করে আরও প্রায় এক লাখ টাকা আয় হয়েছে। এতে বাগান থেকে মোট প্রায় তিন লাখ টাকার ফল বিক্রির অভিজ্ঞতা হয়েছে তার।

আশিক মল্লিক বলেন, শুরুতে বাগান করা নিয়ে নানা ধরনের চিন্তা ছিল। তবে নিয়মিত পরিচর্যা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে তিনি এগিয়ে গেছেন। এখন ফলন ও বিক্রিতে সাফল্য পাওয়ায় ভবিষ্যতে বাগানের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তার বাগানের সাফল্যে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও মিশ্র ফল চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকদের অনেকেই মনে করছেন, প্রচলিত ধান চাষের পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে ফলের বাগান করা গেলে বাড়তি আয় করা সম্ভব। আশিক মল্লিকের উদ্যোগ সেই সম্ভাবনাকেই সামনে এনেছে।

স্থানীয়দের মতে, সীমিত জমিতে একাধিক ধরনের ফল চাষ করে আশিক মল্লিক দেখিয়েছেন যে কৃষিতে বৈচিত্র্য আনলে আয়ের নতুন পথ তৈরি করা যায়। বিশেষ করে তরুণদের জন্য তার উদ্যোগটি একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

৪ নম্বর ঢোলারহাট ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জগদীশ শর্মা জানান, প্রায় তিন বছর আগে আশিক মল্লিক তার কাছে ড্রাগন ফলসহ মিশ্র ফলের বাগান করার আগ্রহের কথা জানান। তখন তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

জগদীশ শর্মা বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও উদ্যোক্তার নিজস্ব প্রচেষ্টায় বর্তমানে আশিক মল্লিক একজন সফল কৃষক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার বাগান দেখে অন্য কৃষকরাও মিশ্র ফল চাষে উৎসাহিত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ও রুহিয়া উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসিরুল আলম বলেন, কৃষকদের সঠিক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে কৃষি বিভাগ সবসময় কাজ করছে। আশিক মল্লিক একজন সফল কৃষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আশিক মল্লিকের মিশ্র ফলের বাগান দেখে এলাকার আরও কৃষক এ ধরনের বাগান করতে আগ্রহী হবেন। এতে কৃষিতে বৈচিত্র্য আসার পাশাপাশি কৃষকদের আয় ও স্বাবলম্বিতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বিজ্ঞাপন

ভবিষ্যতে বাগানের পরিধি আরও বাড়িয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে আশিক মল্লিকের। কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে তার এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে সফলতা অর্জন করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD