দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে পাইলটিং স্কিম চালু হবে

দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও জনমুখী করতে নতুন একটি পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, এই কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি মানুষের বাড়িতে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবেন। প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে রোগীদের হাসপাতালে পাঠানো হবে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসার পাশাপাশি জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাওয়া এই কর্মসূচি সফল হলে তা পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রসারণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগীদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেবেন। এতে সাধারণ রোগীদের অযথা হাসপাতালে যেতে হবে না এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপও কমবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং সরকারি সেবা গ্রহণে ঘুষ বা অনিয়মের সুযোগ কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের সব স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের চিকিৎসা অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চীনের সহায়তায় ৩ হাজার শয্যাবিশিষ্ট দুটি আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব হাসপাতালে নারী ও শিশুদের চিকিৎসাসেবার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন হাসপাতালগুলো চালু হলে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং দেশের স্বাস্থ্যখাত আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মনোহরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজীব মিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর বাদশাসহ আরও অনেকে।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের দুই শতাধিক দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়। এ সময় উপকারভোগীরা সরকারের এই সহায়তা কর্মসূচিকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।







