Logo

তামাক নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর আইন করা প্রয়োজন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩৮
তামাক নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর আইন করা প্রয়োজন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিদ্যমান আইনের আরও কঠোর প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, তামাক একটি ভয়াবহ আসক্তি, যা মানবদেহের প্রায় প্রতিটি অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বর্তমান আইনের কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যাচ্ছে। তাই সমাজকে তামাকের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে আইন আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৫ জুন) সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ধূমপায়ীরাই সবচেয়ে ভালোভাবে জানেন তামাক কতটা ক্ষতিকর। এটি মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়, ক্ষুধা কমিয়ে দেয় এবং ওজন হ্রাসের কারণ হয়। তামাক সেবনের ফলে মুখগহ্বর, গাল ও দাঁতের ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তিনি আরও বলেন, তামাকের আসক্তি অনেক সময় মানুষকে আরও ভয়াবহ মাদকের দিকে ঠেলে দেয়।

বিজ্ঞাপন

ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতে অনিয়ম ও অবহেলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অমানবিক সেবার অভিযোগে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাফল্য অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। ঈদের আগ থেকেই ব্যাপক প্রচারণা, মাইকিং এবং বাড়ি বাড়ি যোগাযোগের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হামের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ রোগ পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন। আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা ওঠানামা করছে। তবে গত এক সপ্তাহে হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, টিকা দেওয়ার পর শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি হতে কিছু সময় লাগে। সময়মতো চিকিৎসাসেবা, পর্যাপ্ত টিকা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD