Logo

হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিস সম্পর্কে আগেই সতর্কসংকেত দেয় লিঙ্গ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ জুন, ২০২৬, ১৬:১০
হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিস সম্পর্কে আগেই সতর্কসংকেত দেয় লিঙ্গ
ছবি: সংগৃহীত

ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা উত্থানজনিত সমস্যা শুধু যৌনস্বাস্থ্যের বিষয় নয়—এটি হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এবং এমনকি ডিমেনশিয়ার মতো গুরুতর রোগের আগাম সতর্কসংকেত হতে পারে বলে সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টিকে রোগী ও চিকিৎসক উভয়েরই আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

গবেষণায় দেখা যায়, ৪০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের বড় একটি অংশ কোনো না কোনো সময়ে এই সমস্যায় ভোগেন। তবে সামাজিক সংকোচের কারণে অনেকেই বিষয়টি প্রকাশ করেন না বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরেকটাইল ডিসফাংশন অনেক সময় শরীরের ভেতরে চলমান বড় ধরনের রোগের ‘নীরব বার্তা’ হিসেবে কাজ করে। এটি হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং স্নায়বিক অবক্ষয়ের মতো সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিত দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন

রোমের ইউনিভার্সিটি অব টর ভারগাটার যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ইমানুয়েলে জান্নিনি এ অবস্থাকে ‘কয়লাখনির ক্যানারি পাখি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, এটি শরীরের ভেতরের বিপদের আগাম সংকেত, যা সময়মতো শনাক্ত করা গেলে বড় রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

একাধিক জরিপ ও গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ইরেকটাইল ডিসফাংশনের হার বয়সভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ বছর বয়সীদের প্রায় ৩৯ শতাংশ নিয়মিতভাবে এ সমস্যায় ভোগেন। ৭০ বছর বয়সে এ হার বেড়ে ৬৭ শতাংশে পৌঁছায়।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সমস্যার মূল কারণ রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়া। যৌন উত্তেজনার সময় লিঙ্গে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু রক্তনালি সংকুচিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতাও এ সমস্যার পেছনে বড় ভূমিকা রাখে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, রক্তনালি সংকুচিত করে এবং যৌন আকাঙ্ক্ষাও কমিয়ে দিতে পারে।

বিবর্তনগত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিপদের সময় শরীর শক্তি সংরক্ষণে মনোযোগী হয়ে পড়ে, ফলে যৌন প্রতিক্রিয়া কমে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

গবেষণায় ইরেকটাইল ডিসফাংশনকে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকির গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের কারণে রক্তনালি শক্ত ও সংকুচিত হয়ে গেলে হৃদযন্ত্রের পাশাপাশি লিঙ্গের ক্ষুদ্র ধমনিগুলোও আগে আক্রান্ত হতে পারে।

প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার মানুষের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এই সমস্যায় ভোগা পুরুষদের করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি ৫৯ শতাংশ বেশি এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৪ শতাংশ বেশি। ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্রজননবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ মাইকেল ক্যারল বলেন, ভালো যৌন সক্ষমতা মূলত সুস্থ রক্তনালিরই প্রতিফলন।

বিজ্ঞাপন

কিছু গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এটি ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। তাইওয়ানের একটি গবেষণায় ইরেকটাইল ডিসফাংশনে ভোগা ব্যক্তিদের মধ্যে সাত বছরের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ৬৮ শতাংশ বেশি পাওয়া গেছে।

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যার গুরুত্ব আরও বেশি। রক্তে অতিরিক্ত শর্করা স্নায়ু ও রক্তনালির ক্ষতি করে, ফলে লিঙ্গে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। স্পেনের সান্ট পাও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক বোগদান ভ্লাচো জানান, টাইপ–২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত পুরুষদের ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

বিজ্ঞাপন

ডায়াবেটিসের পাশাপাশি এই সমস্যা থাকলে স্নায়ু ক্ষতি, চোখের রেটিনার জটিলতা, ক্ষত সারতে দেরি হওয়া এবং অঙ্গচ্ছেদের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তবে চিকিৎসা ব্যবস্থায় এখনো নিয়মিতভাবে এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।

একটি জরিপে দেখা গেছে, লজ্জা ও সংকোচের কারণে অনেক পুরুষ চিকিৎসকের কাছে যান না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চিকিৎসকেরা সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন করেন। পাশাপাশি জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, যেমন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে উন্নতি সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরেকটাইল ডিসফাংশনকে শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে না দেখে একটি সম্ভাব্য শারীরিক সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচনা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: বিবিসি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD