যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি ঘিরে শঙ্কিত ইসরায়েলিরা

যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক দিনের মধ্যেই একটি চুক্তি হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। তবে এই সম্ভাব্য সমঝোতা ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শেষ পর্যন্ত ইরানকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ ও কলামে উঠে এসেছে এই শঙ্কার চিত্র। অনেকেই প্রকাশ করেছেন হতাশা, বিশেষ করে চুক্তি প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের সীমিত ভূমিকা নিয়ে।
রবিবার (১৪ জুন) প্রভাবশালী দৈনিক মারিভে কলামিস্ট বেন কাসপিট লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কিছু সামরিক সংঘাতে সাফল্য পেলেও ইরানের সঙ্গে বিস্তৃত রাজনৈতিক-সামরিক দ্বন্দ্বে তিনি পরাজিত হয়েছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
তার ভাষায়, “সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানের বিরুদ্ধে যেসব সামরিক সাফল্য এসেছে, তার চেয়েও বড় বাস্তবতা হলো—এসবের পর রাজনৈতিকভাবে ইসরায়েলের পরাজয়।”
একই পত্রিকার আরেক কলামিস্ট আভি আস্কেনজাই মন্তব্য করেন, চলমান চুক্তি আলোচনায় ইসরায়েল কার্যত কোনো প্রভাব রাখতে পারেনি। তার মতে, রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণেই চুক্তির কাঠামো নির্ধারণে ইসরায়েল অংশ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে ইয়েনেত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় ইসরায়েলের প্রভাব না থাকা নিয়ে দেশটির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এক শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তা ওই সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইসরায়েলের জন্য অস্বস্তিকর এবং সম্ভাব্য চুক্তিটি ‘ইসরায়েলের স্বার্থের জন্য অনুকূল নয়’ বলে তার ধারণা।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ওয়াশিংটনে সামরিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত
প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজে কলামিস্ট জাভি বারেল লিখেছেন, ইরান এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে আলোচনায় বসেছে এবং তাদের হাতে রয়েছে কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের একাধিক উপায়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে সমঝোতার পথে যেতে হচ্ছে।
তার মতে, ইরানের কৌশল এখন শুধু টিকে থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তারা আবারও নিজেদেরকে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: আলজাজিরা








