জীবন ঝুঁকিতে থাকলে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাবে না মালয়েশিয়া

জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মিয়ানমারে কোনো শরণার্থীকে ফেরত পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটির সরকার বলছে, প্রত্যাবাসনের আগে প্রত্যেক শরণার্থীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই করা হবে। ফেরত পাঠালে কারও জীবন হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকলে তাকে মিয়ানমারে পাঠানো হবে না।
বিজ্ঞাপন
গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, মিয়ানমার ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে গ্রহণে সম্মতি দিয়েছে। এ ঘোষণার পর সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল বলেন, মালয়েশিয়া একটি দায়িত্বশীল দেশ। কাউকে ফেরত পাঠানোর পর যদি তার নির্যাতনের শিকার হওয়ার বা জীবনহানির আশঙ্কা থাকে, তাহলে তাকে প্রত্যাবাসন করা হবে না।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, মিয়ানমারের সামরিক সরকার শরণার্থীদের গ্রহণে সম্মতি দিয়েছে। তবে প্রত্যাবাসনের আগে নির্ধারিত বিভিন্ন মানদণ্ড যাচাই করা হবে। পরিস্থিতি উপযুক্ত মনে হলেই কেবল প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
ফাহমি ফাদজিল বলেন, কারও জীবন ঝুঁকির মধ্যে থাকলে তাকে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছে।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি। তাদের মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা। দেশটিতে এটিই সবচেয়ে বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠী।
গত সপ্তাহে কুয়ালালামপুরে ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ের সামনে শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছিল। উত্তরাঞ্চলীয় পেনাং রাজ্যের একটি অনানুষ্ঠানিক বসতি থেকে উচ্ছেদের আশঙ্কায় তারা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। পরে তাদের কাছে ইউএনএইচসিআরের বৈধ নিবন্ধনের নথি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের প্রস্তুতি হিসেবে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শরণার্থীদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শুরু করেছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধান রোহিঙ্গা অধিকার সংগঠন সরকারকে প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হলে রোহিঙ্গাদের জীবন ও নিরাপত্তা আবারও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল মালয়েশিয়া। তবে দেশটি ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী নয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থীদের মর্যাদাও স্বীকৃতি দেয় না।
বিজ্ঞাপন
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের সময় ব্যাপক নির্যাতনের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের বড় একটি অংশ মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে।
সূত্র: এএফপি








