Logo

জাপানের বিরুদ্ধে ‘সামরিক পদক্ষেপের’ কড়া হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৫ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:০৮
জাপানের বিরুদ্ধে ‘সামরিক পদক্ষেপের’ কড়া হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার
ছবি: সংগৃহীত

জাপানের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার এবং দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা মোতায়েনের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এসব পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে টোকিওর বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পিয়ংইয়ং।

বিজ্ঞাপন

চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানানোর পরই উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এ সতর্কবার্তা আসে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বলেন, জাপানের সামরিকায়ন বাড়তে থাকলে পিয়ংইয়ংও এর পাল্টা প্রস্তুতি নেবে। তার ভাষ্য, জাপানের নীতিগত পরিবর্তনের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সিতে (কেসিএনএ) প্রকাশিত বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং জাপানের সামরিক নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শান্তিবাদী অবস্থান থেকে সরে এসে টোকিও ধীরে ধীরে সামরিক শক্তি বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জাপানের সামরিক তৎপরতার উদাহরণ হিসেবে সাম্প্রতিক টমাহক দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা এবং মে মাসে ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন কিম ইয়ো জং।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাপান আগাম বা পূর্ব সতর্কতামূলক হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জনের নীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তার দাবি, টোকিওর সামরিক অগ্রগতি যদি উত্তর কোরিয়ার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করে, তাহলে পিয়ংইয়ং নীরব থাকবে না।

বিজ্ঞাপন

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এটি ছিল জাপানের এ ধরনের প্রথম পরীক্ষা।

জাপান ও কোরীয় উপদ্বীপের সম্পর্কের পেছনে দীর্ঘ ও তিক্ত ইতিহাস রয়েছে। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের আগে পুরো কোরিয়া অঞ্চল তাদের শাসনের অধীনে ছিল। পরে ৩৮তম অক্ষরেখা বরাবর কোরীয় উপদ্বীপ উত্তর ও দক্ষিণ—দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়।

জাপানের ঔপনিবেশিক শাসনের সেই ইতিহাস এখনো উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব ফেলে। কিম ইয়ো জংয়ের বক্তব্যেও সেই অতীতের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তার দাবি, জাপান যদি আরও শক্তিশালী ও বিধ্বংসী অস্ত্রের দিকে এগোয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই জাপান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে আসছে। ২০২৫ সালে দেশটি সামরিক বাজেট ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৬ হাজার ২২০ কোটি ডলারে উন্নীত করে। দেশটির জিডিপির হিসাবে এই ব্যয় ছিল ১ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ১৯৫৮ সালের পর সর্বোচ্চ।

জাপানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। টোকিওর নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি গত নভেম্বরে এক বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চীন তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করলে জাপান সামরিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এরপর থেকেই চীন ও জাপানের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনাও তারা উড়িয়ে দেয়নি।

এদিকে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতা না হওয়ায় ২০১৯ সালে কিম জং উন ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। এরপর থেকে পিয়ংইয়ং নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছে।

সূত্র: এএফপি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD