জাপানে ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩৪, তীব্র গরমে বাড়ছে দুর্ভোগ

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কুমামোতো অঞ্চলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিজ্ঞাপন
গত মঙ্গলবার কিউশু দ্বীপের কুমামোতো অঞ্চলে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে বহু বাড়িঘর, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে এখনও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভূমিকম্পে একটি শপিংমলের অংশ ধসে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর একই ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। শপিংমল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এইওনের (Aeon) প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, গ্যাস লিক থেকে বিস্ফোরণটি হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
এদিকে ভূমিকম্পের সময় শপিংমলের একটি ক্যাট ক্যাফেতে আটকে পড়া ২৫টি বিড়ালকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
তীব্র গরমে নতুন সংকট
ভূমিকম্পে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৯ হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তবে এখন তাদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে তীব্র তাপদাহ।
বিজ্ঞাপন
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে কুমামোতো অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও উদ্ধারকর্মীদের হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ৩০০টি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে ১৫০টি ইতোমধ্যে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও পানির সংকট
বিজ্ঞাপন
বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে ৩০ হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল। একটি আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মী ইউকিয়া সানৌয়ে জানান, তাদের কেন্দ্রে প্রায় এক হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন, যাদের প্রায় ৩০ শতাংশই প্রবীণ।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জেনারেটর আসার আগে পর্যন্ত সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এরই মধ্যে কয়েকজনের মধ্যে হিটস্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
শতাধিক আফটারশকে আতঙ্ক
বিজ্ঞাপন
মূল ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। নতুন কম্পনের আশঙ্কায় অনেক বাসিন্দা ঘরে না ফিরে গাড়িতেই রাত কাটাচ্ছেন। এদিকে হাজারো উদ্ধারকর্মী ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: বিবিসি








