স্বাস্থ্যখাতে ৫ হাজারের বেশি নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ সরকারের

দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট কাটাতে বড় পরিসরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং নতুন ও সম্প্রসারিত হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে রাজস্ব খাতে প্রায় ৫ হাজার ৩৬৯টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জনবল চাহিদা পর্যালোচনা শেষে প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দ্রুত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়।
সভা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট (বিআইএইচএম) সাভার, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন পদ সৃষ্টির প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি ৩৭টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন বিভাগ চালুর জন্য সংশোধিত জনবল কাঠামোর প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে।
বিজ্ঞাপন
বিআইএইচএম সাভারের জন্য অতিরিক্ত ৮৩টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করতে এই জনবল প্রয়োজন বলে মত দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৩৫০-এ উন্নীত হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২ হাজার ৭১১টি পদের প্রস্তাব দিলেও পর্যালোচনার পর ২ হাজার ৪৮টি পদ সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের কার্যক্রম সচল রাখতে ৪৩টি পদের পরিবর্তে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় ১২টি নতুন পদ রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ইউনিটটির কার্যক্রম চালিয়ে নিতে এসব পদ জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্যও বড় পরিসরে জনবল বৃদ্ধির প্রস্তাব এসেছে। ২ হাজার ২০০ শয্যায় উন্নীত হওয়া হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ১ হাজার ৪৪৭টি পদ সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৩৭টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন’ বিভাগ চালুর লক্ষ্যে জুনিয়র ও সিনিয়র কনসালটেন্টসহ প্রয়োজনীয় পদ অন্তর্ভুক্ত করে নতুন প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে এ বিষয়ে সংশোধিত ও যৌক্তিক প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে।
যশোরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে ২৩৮টি নতুন পদের প্রয়োজনীয়তার কথাও সভায় তুলে ধরা হয়। আউটসোর্সিংভুক্ত পদ বাদ দিয়ে চিকিৎসক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনবল সৃষ্টির সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট চাহিদা প্রায় ৫ হাজার ৩৬৯টি পদ হলেও পর্যালোচনার পর প্রাথমিকভাবে রাজস্ব খাতে ৪ হাজার ৩১৯টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাকি পদগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য ও ‘হেলথ ওয়ার্কফোর্স স্ট্র্যাটেজি ২০২৪’-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের স্বাস্থ্যখাতে অনুমোদিত পদের প্রায় ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ এখনও শূন্য রয়েছে। শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেই খালি রয়েছে ৪৮ হাজার ৫২টি পদ, যার মধ্যে চিকিৎসকের পদই প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে শূন্য রয়েছে ১৬ হাজার ৯২১টি এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে ৫ হাজার ৩৩৩টি পদ। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যখাতে মোট শূন্যপদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৭৬৫টি।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের জনবল সংকটের মধ্যে নতুন পদ সৃষ্টির এই উদ্যোগ সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান উন্নয়ন, রোগীসেবা সম্প্রসারণ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় গতি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।








