হামে ৮৭৩ মৃত্যু, টিকা নিয়েও আক্রান্ত কেন শিশুরা?

বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে মৃত্যুও। ৯ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম ও সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৩৫ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ১১৫ জনের। আর সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০।
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে হাম ও সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যু হয়েছে ৮৭৩ জনের। তাদের মধ্যে ৯৮ জনের হাম নিশ্চিত ছিল, আর ৭৭৫ জন ছিলেন সন্দেহজনক হাম রোগী। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৮২ জন রোগীর মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ১৪২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে টিকাদান নিয়ে। সরকার বলছে, সাম্প্রতিক হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও টিকা নেওয়া শিশুদের একটি অংশ হামে আক্রান্ত হওয়ায় টিকার কার্যকারিতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং চলমান প্রাদুর্ভাবের প্রকৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
একদিনেই হাসপাতালে ১ হাজারের বেশি রোগী
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব বলছে, ৮ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ৯ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত এক হাজার ৬৩ জন হাম ও সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এই ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের।
অর্থাৎ সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সংক্রমণের চাপ এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শিশুদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে স্বজনদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। কোথাও বিশেষ ওয়ার্ডে শয্যার সংকট, কোথাও আইসিইউ ও এনআইসিইউ সুবিধার সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
হামের চিকিৎসার ব্যয়ও অনেক পরিবারের জন্য বড় বোঝা হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রস-রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশনের যৌথ জরিপে উঠে এসেছে, আক্রান্ত পরিবারগুলোর বড় অংশ চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে ঋণ করছে অথবা নিজেদের সঞ্চয় ব্যবহার করছে।
লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি টিকা দেওয়ার দাবি
বিজ্ঞাপন
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশন এলাকায় সরকারের লক্ষ্য ছিল ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ শিশুকে টিকা দেওয়া। ৯ আগস্ট পর্যন্ত টিকা পেয়েছে ২০ লাখ ৪৭ হাজার ১২৯ শিশু। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০৭ শতাংশ পূরণ হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের বাইরে বিভাগীয় পর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশু। সেখানে টিকা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৯১ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৯ শিশুকে।
বিজ্ঞাপন
সব মিলিয়ে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে ২ কোটি ১২ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু টিকাদানের সংখ্যা সন্তোষজনক হওয়ার পরও কেন সংক্রমণ থামছে না—এখন সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
টিকা নেওয়া শিশুরাও কেন আক্রান্ত?
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং আইসিডিডিআর'বির গবেষকদের একটি অনুসন্ধান এই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে সন্দেহভাজন হাম নিয়ে ভর্তি হওয়া ১৪ বছরের কম বয়সী ৩৪১ শিশুকে নিয়ে গবেষণা করা হয়। পরীক্ষাগারে তাদের মধ্যে ৩২৪ শিশুর হাম নিশ্চিত হয়।
বিজ্ঞাপন
গবেষণায় দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ছিল তিন থেকে আট মাস বয়সী শিশুরা। এই বয়সসীমার ১৪১ শিশুর মধ্যে ১৩৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
টিকাদানের অবস্থার ভিত্তিতেও শিশুদের আলাদা করে বিশ্লেষণ করা হয়। নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়স হয়নি—এমন ৯ মাসের কম বয়সী ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের হাম শনাক্ত হয়, যা প্রায় ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
অন্যদিকে টিকা নেওয়ার উপযুক্ত বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৯৭ শতাংশ। এক ডোজ টিকা পাওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। হার দাঁড়িয়েছে ৯২ শতাংশ। আর সুপারিশ করা দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে, যা প্রায় ৭৬ শতাংশ।
বিজ্ঞাপন
তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এটি হাসপাতালভিত্তিক অনুসন্ধান। তাই শুধু এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুরো দেশের জনসংখ্যার মধ্যে টিকার কার্যকারিতা নির্ধারণ করা যাবে না।
গবেষকরা বলছেন, টিকা এড়িয়ে যাওয়ার প্রমাণ নেই
আইসিডিডিআর'বির সংক্রামক রোগ বিভাগের ভাইরোলজি ল্যাবরেটরির সহযোগী বিজ্ঞানী নূরজাহান মালিহার মতে, ব্যাপক সংক্রমণের কারণে টিকার কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক।
বিজ্ঞাপন
তবে তাদের অনুসন্ধানে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে হামের ভাইরাস টিকার সুরক্ষা এড়িয়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তন করেছে। বরং দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে টিকার প্রকৃত কার্যকারিতা নির্ধারণ করতে আরও বড় পরিসরে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ভাইরাসের ধরন বদলেছে কি না, চলছে অনুসন্ধান
হামের এই প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই ভাইরাসের ধরন নিয়ে প্রশ্ন ছিল। নতুন কোনো ভ্যারিয়েন্ট কিংবা বিদেশি উৎস থেকে আসা ভাইরাসের কারণে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকির জানিয়েছেন, প্রাথমিক গবেষণায় এটি বাংলাদেশের স্থানীয় ধরনের হাম ভাইরাস বলেই পাওয়া গেছে। অন্য কোনো ধরনে পরিবর্তিত হওয়ার প্রমাণ মেলেনি।
এখন তাদের গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে টিকা নেওয়ার পরও কেন কিছু শিশু আক্রান্ত হচ্ছে, সেটি নির্ণয় করা।
আইইডিসিআর উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ ৩০টি উপজেলা থেকে ৫০০ থেকে ৮০০ টিকাপ্রাপ্ত শিশুর নমুনা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। তাদের শরীরে টিকা কতটা কার্যকর প্রতিরোধ তৈরি করেছে, তা পরীক্ষা করা হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই গবেষণার কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, জরুরি ভিত্তিতে গবেষণা দরকার
প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু টিকাদানের সংখ্যা দিয়ে সমস্যার কারণ ব্যাখ্যা করা যাবে না।
তার মতে, টিকা দেওয়ার পর শরীরে কার্যকর প্রতিরোধ তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগে। একই সঙ্গে ভাইরাসের আচরণে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না, টিকাদান সঠিকভাবে হয়েছে কি না এবং আক্রান্ত শিশুদের পুষ্টিগত অবস্থা কেমন—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে অপুষ্টিকে তিনি ঝুঁকির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে হাম আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই মৃত্যু ও গুরুতর অসুস্থতার কারণ খুঁজতে সমন্বিত গবেষণা জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন
হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোর ওপর চাপও বাড়ছে। রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালকে হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। শিশুদের জন্য বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে আইসিইউ বা এনআইসিইউ সুবিধা পাওয়া নিয়ে সংকটের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে খুব কম বয়সী শিশুদের জন্য সব ধরনের জরুরি চিকিৎসা একই হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না।
ফলে অনেক পরিবারকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রোগী নিয়ে যেতে হচ্ছে। গুরুতর অবস্থায় এই স্থানান্তর শিশুদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ।
টিকা নিয়েও আক্রান্ত হয়েছিল ওসমান
চাঁদপুরের নয় মাস বয়সী ওসমানের ঘটনাটি পরিস্থিতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। ছয় মাস বয়সে সরকারি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি থেকে সে টিকা নিয়েছিল। এরপরও সম্প্রতি তার শরীরে হাম শনাক্ত হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে অবশ্য শেষ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ওসমান।
তার মা সানজিদা আক্তারের অভিযোগ, সরকারি কর্মসূচির ওপর আস্থা রেখে সন্তানকে টিকা দেওয়ার পরও যখন সে আক্রান্ত হলো, তখন চিকিৎসার জন্য একাধিক জায়গায় ঘুরতে হয়েছে। চিকিৎসা পাওয়ার এই দীর্ঘ প্রক্রিয়াকে তিনি অত্যন্ত কষ্টকর বলে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে একই পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার সন্তানকে হারিয়েছে। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটেও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে না পারার অভিযোগ করেছেন নিহত শিশুদের স্বজনরা।
চিকিৎসা ব্যয়ে নিঃস্ব হচ্ছে পরিবার
হামের প্রাদুর্ভাবের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে আক্রান্ত পরিবারগুলোর অর্থনীতিতে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত প্রায় ৮৯ শতাংশ পরিবার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে ঋণ নিয়েছে।
প্রায় ৬১ শতাংশ পরিবার তাদের সঞ্চয় ব্যবহার করেছে। প্রায় ৪ শতাংশ পরিবার চিকিৎসা ব্যয় চালাতে নিজেদের সম্পদ বিক্রি করেছে। আরও প্রায় ৩ শতাংশ পরিবার অনুদানের ওপর নির্ভর করেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া সব পরিবারই কোনো না কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনের কথা জানিয়েছে।
তাদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ পরিবার ওষুধকে সবচেয়ে জরুরি সহায়তা হিসেবে উল্লেখ করেছে। পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত সহায়তার কথা জানিয়েছে ৩৩ শতাংশ পরিবার। খাদ্য সহায়তাকে জরুরি বলেছেন ২২ শতাংশ।
দেশের ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ২ হাজার ৭৪৬টি হাম আক্রান্ত পরিবারের ওপর এই মূল্যায়ন পরিচালিত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ২ হাজার ৪০০ পরিবারকে জরুরি নগদ সহায়তার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
শুধু চিকিৎসা ব্যয় নয়, হারাচ্ছে আয়ের সুযোগও
জরিপের ফল বলছে, হামের অর্থনৈতিক ক্ষতি শুধু ওষুধ, পরীক্ষা কিংবা হাসপাতালের বিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনেক অভিভাবক দীর্ঘ সময় হাসপাতালে সন্তানের পাশে থাকায় কর্মস্থলে যেতে পারেননি। কেউ কেউ আয়ের সুযোগ হারিয়েছেন, এমনকি চাকরিও হারানোর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
জরিপে থাকা পরিবারগুলো চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে গড়ে প্রায় ১৬ হাজার টাকা ব্যয় করেছে। অর্থাৎ একটি শিশুর অসুস্থতা শুধু একটি পরিবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে না; একই সঙ্গে তাদের সঞ্চয়, আয় ও ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তাকেও আঘাত করছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—দায় কার?
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ভাইরাসের ধরন নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়েছে।
তারপরও সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে থাকায় এখন শুধু আগের সরকারের টিকাদান ঘাটতিকে দায়ী করে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা কঠিন।
প্রশ্ন উঠছে—টিকা দেওয়ার পরও যারা আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের শরীরে পর্যাপ্ত প্রতিরোধ তৈরি হয়েছে কি না; টিকার সংরক্ষণ ও প্রয়োগ প্রক্রিয়া ঠিক ছিল কি না; কোন বয়সের শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে; অপুষ্টি ও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি কতটা ভূমিকা রাখছে; এবং হাসপাতালগুলো গুরুতর রোগীদের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত কি না।
এই প্রশ্নগুলোর নির্ভরযোগ্য উত্তর পাওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি।
কারণ টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য শুধু কত কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে বিচার করা যায় না। একই সঙ্গে দেখতে হবে টিকা নেওয়ার পর বাস্তবে কতটা সুরক্ষা তৈরি হচ্ছে, আক্রান্ত হলে কত দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা মিলছে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি কীভাবে কমানো যাচ্ছে।
৮৭৩টি মৃত্যুর পর তাই দায় নির্ধারণের পাশাপাশি সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে কারণ শনাক্ত করা, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং টিকার কার্যকারিতা নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ গবেষণা শেষ করা।







