Logo

গর্ভাবস্থায় ভুলে যাওয়ার কারণ খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬:৫৩
গর্ভাবস্থায় ভুলে যাওয়ার কারণ খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা
ছবি: সংগৃহীত

গর্ভাবস্থায় অনেক নারীর সাময়িক ভুলে যাওয়া, মনোযোগে ঘাটতি বা পরিচিত তথ্য মনে করতে অসুবিধা হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়। প্রচলিতভাবে একে ‘মমোনেশিয়া’, ‘মমি ব্রেইন’ বা ‘প্রেগন্যান্সি ব্রেইন’ বলা হয়। নতুন এক গবেষণায় উচ্চমাত্রার ইস্ট্রোজেন এবং মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট একটি স্নায়ুপথের পরিবর্তনের সঙ্গে এ ধরনের স্মৃতির সমস্যার সম্ভাব্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

গবেষণাটি Science Bulletin সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় ইঁদুরের শরীরে গর্ভাবস্থার মতো দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ ইস্ট্রোজেনের মাত্রা তৈরি করে দেখা যায়, এতে সাময়িক স্মৃতিশক্তির সমস্যা দেখা দেয়। তবে প্রাণীগুলোর মেজাজ বা স্বাভাবিক অনুসন্ধানী আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গবেষকেরা এ পরিবর্তনের সঙ্গে মস্তিষ্কের ল্যাটেরাল হাইপোথ্যালামাস থেকে হিপোক্যাম্পাসের একটি অংশে যাওয়া স্নায়ুপথের সম্পর্ক শনাক্ত করেছেন। হিপোক্যাম্পাস স্মৃতি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উচ্চমাত্রার ইস্ট্রোজেন হাইপোথ্যালামাসের ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টরযুক্ত গ্যাবার্জিক নিউরনের কার্যক্রম বাড়িয়ে দেয়, যা পরে হিপোক্যাম্পাসের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।

পরীক্ষায় গবেষকেরা ওই স্নায়ুপথের কার্যক্রম কমিয়ে দিলে ইস্ট্রোজেনের কারণে তৈরি স্মৃতির সমস্যা অনেকটাই প্রতিরোধ করা যায়। বিপরীতে স্নায়ুপথটি কৃত্রিমভাবে সক্রিয় করলে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা না বাড়িয়েও ইঁদুরের স্মৃতিতে একই ধরনের দুর্বলতা দেখা যায়। হাইপোথ্যালামাসের সংশ্লিষ্ট নিউরন থেকে ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টর সরিয়ে দেওয়ার পরও সমস্যাটি কমে যায়।

বিজ্ঞাপন

গবেষণায় গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের ৭০ জন নারীকেও স্মৃতিসংক্রান্ত পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে গর্ভাবস্থার শেষ দিকে নির্দিষ্ট কিছু স্মৃতিনির্ভর কাজে দুর্বলতা এবং রক্তে বেশি ইস্ট্রোজেনের মাত্রার মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া যায়। তবে মানুষের ক্ষেত্রে ওই স্নায়ুপথ সরাসরি পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে মানুষের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন ও স্মৃতির পরিবর্তনের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেলেও ইঁদুরের পরীক্ষার মতো সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক এখনো প্রমাণিত হয়নি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গবেষকেরা বলছেন, এসব পরিবর্তন সামগ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রমাণ নয়। বরং কিছু নির্দিষ্ট ধরনের স্মৃতি ও চিন্তাসংশ্লিষ্ট কাজে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে। গবেষণার ফল অনুযায়ী, গর্ভাবস্থাজনিত এই পরিবর্তন সাধারণত সাময়িক প্রকৃতির এবং সন্তান জন্মের পর ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।

গবেষণাটি তাই গর্ভাবস্থায় দেখা ‘প্রেগন্যান্সি ব্রেইন’-এর একটি সম্ভাব্য জৈবিক ব্যাখ্যা দিয়েছে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট স্নায়ুপথটির ভূমিকা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD