Logo

দেশজুড়ে দ্বিতীয় দফায় ৩৪ লাখ শিশুকে হামের টিকাদান শুরু

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩:২৭
দেশজুড়ে দ্বিতীয় দফায় ৩৪ লাখ শিশুকে হামের টিকাদান শুরু
ছবি: সংগৃহীত

দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে প্রথম দফায় টিকা না পাওয়া শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় পর্যায়ের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। এ দফায় প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তির টিএনটি খেলার মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর নিয়মিত চার বছর অন্তর পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও এমআর টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ ছিল। ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, “ভাগ্যক্রমে কিংবা দুর্ভাগ্যবশত, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই চার বছরের খেসারত আমাদের ওপর এসে পড়েছে। আমাদের জাতিকে, আমাদের মায়েদের অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে, অনেক মায়ের বুক খালি হয়ে গেছে। এ জন্য আমি সত্যিই ব্যথিত।”

বিভিন্ন মহামারিতে চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের চিকিৎসকেরা সংকট ও জরুরি পরিস্থিতিতে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনাকালে চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং শতাধিক চিকিৎসকের আত্মত্যাগের কারণে বাংলাদেশে মৃত্যুহার তুলনামূলক কম ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা আমাদের ডাক্তারদের কাছে ঋণী।” তাঁর মতে, দেশের চিকিৎসকদের অবদান ও প্রচেষ্টা মহামারি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

শিশুদের অপুষ্টি ও হামের জটিলতা সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে মৃত্যুঝুঁকিও বেড়ে যায়।

সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে গণমাধ্যমসহ সমাজের সব পক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাম ও অন্যান্য মহামারি মোকাবিলায় শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ এমআর টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। ওই কর্মসূচিতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

পরে ২৮ জুনের জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে একই বয়সী প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ শিশু অংশ নেয়। দুই কর্মসূচির তথ্য তুলনা করে প্রায় ৪৩ লাখ শিশুর টিকা না পাওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। এসব শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যেই পরবর্তী পর্যায়ের বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে টিকাদান থেকে বাদ পড়া শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং হামের সংক্রমণ ও এর জটিলতা মোকাবিলায় অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিশুদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD