Logo

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে বিশ্বে আবারও বাড়ছে গড় আয়ু

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:০৮
করোনার ধাক্কা কাটিয়ে বিশ্বে আবারও বাড়ছে গড় আয়ু
ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কা অনেকটাই কাটিয়ে বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু আবারও বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক গড় আয়ু বেড়ে ৭৩ দশমিক ৩ বছরে দাঁড়িয়েছে, যা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় মাত্র শূন্য দশমিক ১ বছর কম।

বিজ্ঞাপন

ডব্লিউএইচওর সর্বশেষ ‘গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেটস’-এ ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল ও দেশে মৃত্যু এবং প্রতিবন্ধিতার প্রবণতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ডব্লিউএইচওর বিভিন্ন কারিগরি কর্মসূচি এবং জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থাগুলোর তথ্য ব্যবহার করে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭৩ দশমিক ৪ বছর। করোনাভাইরাস মহামারির সময় তা কমে গেলেও ২০২৩ সালে আবার ৭৩ দশমিক ৩ বছরে ফিরে এসেছে।

তবে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময় বা ‘হেলদি লাইফ এক্সপেক্টেন্সি’ আগের অবস্থায় ফিরতে তুলনামূলক বেশি সময় নিচ্ছে। ২০২৩ সালে বিশ্বে একজন মানুষ গড়ে ৬২ দশমিক ৮ বছর সুস্থভাবে বেঁচেছেন। ২০১৯ সালের তুলনায় এই হার এখনো শূন্য দশমিক ৪ বছর কম।

বিজ্ঞাপন

ডব্লিউএইচওর ডেটা, ডিজিটাল হেলথ, অ্যানালিটিকস ও এআই বিভাগের পরিচালক ড. অ্যালাঁ ল্যাব্রিক বলেন, ‘দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় অর্জন।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের জীবনে যুক্ত হওয়া অতিরিক্ত বছরগুলো যেন সুস্থভাবে কাটে। একই সঙ্গে জনসংখ্যার পরিবর্তিত চাহিদা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থাগুলোও যেন প্রস্তুত থাকে।’

সংক্রামক রোগের মৃত্যুহার কমছে নিম্নআয়ের দেশে

ডব্লিউএইচওর তথ্য বিশ্বে মৃত্যুর কারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো নিম্নআয়ের দেশগুলোতে সংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার মোট মৃত্যুর অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বজুড়ে একই সময়ে অসংক্রামক রোগের কারণে মৃত্যুর হারও বেড়েছে। ২০২৩ সালে মোট মৃত্যুর ৭৪ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল অসংক্রামক রোগ। ২০০০ সালে এই হার ছিল ৫৮ শতাংশ। মৃত্যুর প্রধান ১০টি কারণের মধ্যে আটটিই ছিল অসংক্রামক রোগ।

হৃদ্‌রোগ এখনো মৃত্যুর প্রধান কারণ

বিশ্বে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে এখনো হৃদ্‌রোগই শীর্ষে রয়েছে। ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজের কারণে ২০২৩ সালে আনুমানিক ৯৫ লাখ মানুষ মারা গেছেন। এ রোগের কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষের প্রায় ২১ কোটি বছর সুস্থ জীবন হারিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০০০ সালের পর বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হৃদ্‌রোগের বোঝা কমাতে অগ্রগতি হলেও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যক্তিপ্রতি ঝুঁকি বেড়েছে। এতে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যমান বৈষম্যও ফুটে উঠেছে।

দ্রুত বাড়ছে ডিমেনশিয়ার প্রভাব

দীর্ঘমেয়াদি রোগগুলোর মধ্যে ডিমেনশিয়ার বোঝাও দ্রুত বাড়ছে। ২০০০ সালে বিশ্বে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর তালিকায় ডিমেনশিয়ার অবস্থান ছিল ১৯তম। ২০২৩ সালে তা উঠে এসেছে পঞ্চম স্থানে। এ সময়ে ডিমেনশিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া ২০০০ সালের পর ডায়াবেটিসে মৃত্যুর ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ বৃদ্ধির প্রবণতা বিশেষভাবে স্পষ্ট।

২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বয়সের পার্থক্য বিবেচনায় বৈশ্বিক হিসাবে বিষণ্নতাজনিত রোগের কারণে হারানো সুস্থ জীবনের হার প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। উদ্বেগজনিত রোগের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি প্রায় ৪৫ শতাংশ।

মাদক ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট রোগের ক্ষেত্রেও অঞ্চলভেদে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মৃত্যুঝুঁকি এবং সুস্থ জীবন হারানোর হার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আমেরিকা মহাদেশে। বিপরীতে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ ধরনের ঝুঁকি কমেছে।

বিজ্ঞাপন

ড. ল্যাব্রিকের মতে, এসব পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়; বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সময়ে রোগের বোঝা এবং মৃত্যুর কারণ কীভাবে বদলাচ্ছে, তার গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে দেশগুলো স্বাস্থ্যনীতি ও ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নির্ধারণে প্রয়োজনীয় প্রমাণ পেতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, মানুষের আয়ু বাড়া জনস্বাস্থ্যের অগ্রগতির বড় একটি দিক হলেও বাড়তি বছরগুলো কতটা সুস্থভাবে কাটছে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বার্ধক্য, হৃদ্‌রোগ, ডিমেনশিয়া, ডায়াবেটিস, বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের বাড়তি চাপ সামলানো আগামী দিনের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD