Logo

ক্যানসার চিকিৎসায় যুক্ত হচ্ছে ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:৪০
ক্যানসার চিকিৎসায় যুক্ত হচ্ছে ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন
ছবি: সংগৃহীত

ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা সহজ ও সহজলভ্য করতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিনের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ছয়টি এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ১১টি স্থাপন করা হবে। এসব মেশিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও জনবল প্রশিক্ষণের কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

দেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের জন্য ক্যানসারের চিকিৎসা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকায় অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ক্যানসারের মতো জটিল রোগে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু অর্থের অভাব ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণে দরিদ্র মানুষকে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। আগামী দিনে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত দেশব্যাপী এক বছরব্যাপী জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী নিয়ে ব্যাপক প্রচারাভিযান চালানো হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

তিনি বলেন, কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে। র‌্যালি, মেলা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমও থাকবে।

বিজ্ঞাপন

‘দু’টির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’—এই স্লোগান সামনে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে বলেও জানান তিনি। শুধু প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সামগ্রী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে নানা ধরনের কার্যক্রম নেওয়া হবে, যাতে মানুষ পরিবার পরিকল্পনায় উদ্বুদ্ধ হন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করে দেশে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু-পরবর্তী কার্ডিয়াক জটিলতা বাড়ায় চিকিৎসকদের সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯৪ হাজার ৩৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৮ হাজার ২৯৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার প্রায় ৯০ শতাংশ।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD