Logo

গ্রামীণ নারীদের রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি পুরুষের তুলনায় ১১ গুণ বেশি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১৫:০৮
গ্রামীণ নারীদের রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি পুরুষের তুলনায় ১১ গুণ বেশি
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতার উচ্চ হার নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণায়। স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা নারীদের প্রায় ৭৮ শতাংশই রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতার প্রকোপ প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষ করে মাঝারি মাত্রার রক্তস্বল্পতায় নারীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি পুরুষের তুলনায় ১১ দশমিক ৫৩ গুণ বেশি।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম বিভাগের চারটি গ্রামীণ ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা প্রাপ্তবয়স্কদের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‘হেলথ সায়েন্স রিপোর্টস’-এ গত ১০ অক্টোবর প্রকাশিত এ গবেষণায় হিমোগ্লোবিন পরীক্ষার তথ্য পাওয়া ৪৫৯ জনের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, নারীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৭ শতাংশ মৃদু, ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ মাঝারি এবং ২ দশমিক ৬ শতাংশ তীব্র রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ঝুঁকির মাত্রা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের মৃদু রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ২ দশমিক ৫১ গুণ। মাঝারি মাত্রার রক্তস্বল্পতার ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৫৩ গুণে। এ ছাড়া স্বাভাবিক ওজনের মানুষের তুলনায় কম ওজনের ব্যক্তিদের মাঝারি মাত্রার রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩ দশমিক ৪২ গুণ বেশি।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের রক্তস্বল্পতার পেছনে পুষ্টিহীনতা, মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, অল্প বয়সে বিয়ে এবং মাতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের সময় নারীদের শরীরে পুষ্টি উপাদানের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু অনেকেই প্রয়োজনীয় আয়রন ও অন্যান্য পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার পান না। ফলে তাদের মধ্যে রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি বাড়ে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আফসানা হাবিব শিউলী গণমাধ্যমকে বলেন, নারীদের শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে পুষ্টিবিষয়ক শিক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, রক্তস্বল্পতা মানেই শরীরে আয়রনের ঘাটতি নয়। ফলেট ও ভিটামিন বি১২-এর অভাব, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, বিভিন্ন সংক্রমণ এবং বংশগত রক্তরোগ থেকেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই রক্তস্বল্পতা শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো এবং প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

গবেষণার সহগবেষক ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, গ্রামীণ নারীদের নিয়মিত হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে কিশোরী, সন্তান ধারণের উপযোগী বয়সের নারী এবং গর্ভবতীদের প্রতি বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের বড়ি গ্রহণ এবং চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় মাছ, মাংস, ডিম, ডাল ও শাকসবজি রাখা প্রয়োজন। আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি-যুক্ত ফল খেলে শরীরে আয়রন শোষণ সহজ হয়। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা এবং সন্তান জন্মদানের মধ্যে পর্যাপ্ত সময়ের ব্যবধান রাখার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সালাহউদ্দিন শাহ জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্তের হার তুলনামূলক বেশি। এ কারণে রক্তস্বল্পতার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা জরুরি। কারণ নির্ণয় না করে চিকিৎসা দিলে অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন

তবে গবেষণাটির ফলাফল ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কয়েকটি সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে। চূড়ান্ত বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষার তথ্য পাওয়া মাত্র ৪৫৯ জনকে। এ ছাড়া রক্তস্বল্পতার সম্ভাব্য সব কারণ আলাদাভাবে শনাক্ত করা হয়নি। ফলে এ গবেষণার পরিসংখ্যানকে দেশের সব নারী-পুরুষের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD